পশ্চিমে ‘বন্ধ হচ্ছে’ ওষুধ কারখানা, বাংলাদেশে সম্ভাবনা দেখছেন মুক্তাদির
ঢাকার কুড়িলে ওষুধ খাতের যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ নিয়ে শুরু তিন দিনের ‘এশিয়া ফার্মা এক্সপোতে’ অংশ নিচ্ছে ২৫ দেশের ৬৫০ কোম্পানি।
যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই সপ্তাহে একাধিক ওষুধ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর দিয়ে ঔষধ শিল্প সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির এ প্রবণতাকে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।
সাধারণ ওষুধ তৈরির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে একাধিক কারখানা বন্ধ হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার ঢাকার কুড়িলে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ওষুধ খাতের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ১৪তম ‘এশিয়া ফার্মা এক্সপো’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
তিন দিনের এ প্রদর্শনীতে জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, ভারত ও চীনসহ ২৫ দেশের ৬৫০টি কোম্পানি ওষুধ কারখানার বিভিন্ন যন্ত্র, যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তি ও মোড়কজাতের যন্ত্র নিয়ে হাজির হয়েছে।
বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি আয়োজিত এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে।
স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সহ সভাপতি মুক্তাদির বলেন, “ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অনেক ওষুধ উৎপাদন শিল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গত দুই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক উৎপাদন কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি আমরা।
“আমি মনে করি ২০২৩ সালের বাকি তিন প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় উৎপাদন কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাব আমরা। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ ওষুধের খরচ কমানোর জন্য এমন হচ্ছে। পশ্চিমা দুনিয়ায় যখন এমনটা চলছে, তা আমাদের জন্য অবশ্যই নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নাজমুল হাসান পাপন বলেন, এ আয়োজন উৎপাদক, সরবরাহকারী এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির সুযোগের পাশাপাশি ফার্মেসি, মাইক্রোবায়োলজি, কেমিস্ট্রি শিক্ষার্থীদের জন্যও শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ।
ওষুধ খাতের এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বরাবরের মত মূলত ওষুধ উৎপাদক কোম্পানিগুলোকে সামনে রেখে আয়োজন করা হলেও তা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আগ্রহীরা শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধা ৬টা পর্যন্ত আসতে পারবেন এক্সপোতে।
কী কী আছে প্রদর্শনীতে
পুরো প্রদর্শনীতে মূলত বিভিন্ন উৎপাদন যন্ত্র ও প্রযুক্তি নির্মাতা কোম্পানিগুলোর স্টলই আছে বেশি। এর সঙ্গে পরীক্ষাগারের যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ এবং ওষুধ খাতের কাঁচামাল অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিকাল ইনগ্রিডিয়েন্টস (এপিআই) প্রক্রিয়াজাত প্ল্যান্টসহ নানা ধরনের যন্ত্রাংশ প্রদর্শনীতে তুলে ধরেছে কোম্পানিগুলো।
ভারি ভারি এসব যন্ত্রের মধ্যে সহজেই দর্শনার্থীদের নজরে পড়ছে চীনা কোম্পানি টফলনের তৈরি ‘ভায়াল-অ্যাম্পল ইন্সপেকশন মেশিন’। এক্সপোর মূল প্রবেশমুখ থেকে কিছুটা সামনে এগোলেই চোখে পড়ে ভেতরে লাল আলো জ্বলতে থাকা কাঁচ ঘেরা যন্ত্রটি।
প্রদর্শনীতে বাংলাদেশে এ যন্ত্র বিপণনকারী কোম্পানি নিউ অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের কর্মকর্তা সহকারী মহাব্যবস্থাপক কে এইচ রোকনুজ্জামান এটি কী কাজে লাগে তা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ওষুধের মান যাচাই করে থাকে যন্ত্রটি। পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে মানবকর্মীদের তুলনায় যন্ত্রপ্রযুক্তির ওপর নির্ভর করলে ভুলত্রুটির হার কমে আসে- সেজন্য এমন যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া প্রদর্শনীতে সহজে চোখে পড়ে জার্মানি ও ভারতের যৌথ উদ্যোগের কোম্পানি বেকটোকেম-লডিজে এর মিক্সার ও ড্রায়ার মেশিন।
কোম্পানিটির পরিচালক আহান বেক্টর জানালেন, ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য শুকানো এবং ট্যাবলেট কোটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয় যন্ত্র দুটি।
এসব যন্ত্রের ব্যবহার বাংলাদেশের ওষুধ উৎপাদন শিল্পে তেমন নেই বলে জানান তিনি। তবে ওষুধ তৈরির কাঁচামালকেন্দ্রিক এপিআই শিল্প গড়ে ওঠতে শুরু করার এমন যন্ত্রের ব্যবহার বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি।
এসব যন্ত্রের বাইরে ট্যাবলেট উৎপাদন ও মোড়কজাতের যন্ত্রও আছে প্রদর্শনীতে।
