Published : 10 Mar 2026, 09:39 PM
সরকার বদল হলেও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে এবিবি নেতাদের বলেছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের পর এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
এদিন তার নেতৃত্বে গভর্নরের সঙ্গে দেখা করতে যান বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) নেতারা।
এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, “গভর্নর আশ্বস্ত করেছেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার যে প্রক্রিয়াটা শুরু হয়েছে তা অব্যাহত রাখা হবে। সরকার বদল হওয়ার মানে এই নয়, পাচারের টাকা ফেরত আনার উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যাবে।’’
আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনকালে ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ব্যবসায়ী ও সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের অর্থনীতির হালচাল খতিয়ে দেখতে গঠিত একটি শ্বেতপত্র কমিটি করে অন্তর্বর্তী সরকার।
শ্বেতপত্র কমিটর প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দেড় দশকের শাসনামলে উন্নয়ন বাজেটের ৪০ শতাংশ অর্থ ‘তছরুপ’ বা ‘লুটপাট’ হয়েছে।
এ অর্থ থেকে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বা এক লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা বিদেশে ‘পাচার’ হয়েছে বলেও কমিটির পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১০টির বেশি শিল্প গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্তে নামে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইউ) ও পুলিশের সিআইডি বিভাগ।
অর্থ ফেরত আনতে একাধিক আন্তজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে কয়েকটি ব্যাংক।
চুক্তির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, যেহেতু বাণিজ্যের আড়ালে ব্যাংক ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে অর্থ পাচার হয়েছে, তাই ব্যাংকই মামলা করবে। কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যাংকের অভিযোগ থাকলে একটি ব্যাংক ‘লিড ব্যাংক’ হিসেবে কাজ করবে।
মঙ্গলবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়।
গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, “ইতোমধ্যে ৮ থেকে ১০টি আন্তর্জাতিক আইন সংস্থা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব সংস্থা বিদেশের আদালতে মামলা পরিচালনা করছে।
“আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তবে এবিবি হিসেবে আমরা আশাবাদী যে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হবে।”
মাসরুর আরেফিন বলেন, “সরকার পরিবর্তন হলেও এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে—এমন কোনো আশঙ্কা নেই।”
তিনি বলেন, “আমরা আজকেও দেখলাম, কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।’’
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্সের’ আওতায় পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আসার পরে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কমিশন পাবে।