Published : 25 Nov 2025, 08:11 PM
নেসলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘নিম্নমানের’ কিটক্যাট চকোলেট ওয়েফার বাজারজাত করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অস্বীকার করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
নেসলে বলছে, খাদ্যপণ্যটির গুণগত মানের পক্ষে ডিস্ট্রিবিউটররা যে তথ্য দিয়েছে সেটি উপেক্ষা করা হচ্ছে।
অভিযোগের ব্যাপারে মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দিয়েছে নেসলে বাংলাদেশ। সেখানে বলা হয়েছে, ‘নিম্নমানের’ কিটক্যাট চকলেট বাজারজাত করার অভিযোগ তুলে নেসলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পাবলিক পলিসি ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা করার আগে কোনো যোগাযোগও করা হয়নি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান সোমবার ‘নিম্নমানের’ কিটক্যাট বাজারজাত করার অভিযোগে ওই মামলা করেন। এরপর ঢাকার নিরাপদ খাদ্য আদালত নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপাল আবে বিক্রমা ও পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ান জারি করে।
নেসলের বিবৃতিতে বলা হয়, এ ব্যাপারে মামলাকারী কর্তৃপক্ষ নেসলের বাংলাদেশের সঙ্গে ‘আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ করেনি’। কর্তৃপক্ষ নেসলের ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রাসঙ্গিক সব তথ্য-উপাত্ত লিখিত আকারে তুলে ধরা হয়।
“এরপরও এসব তথ্য-উপাত্ত বিবেচনায় না নিয়ে নেসলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পাবলিক পলিসি ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এরপর সোমবার একটি পরোয়ানা জারি হয়েছে।”
মামলার বাদী পরিদর্শক কামরুল বলেন, “নেসলে উৎপাদিত কিটক্যাট চকলেট-কোটেড ওয়েফার পরীক্ষা করে নিম্নমানের প্রমাণ পাওয়ার পর মামলা করা হয়েছে। দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্যটির নমুনা ওয়েফার বিস্কুট এবং তার চকোলেট আবরণ—দুটি ভাগে পরীক্ষা করা হয়েছিল।”
এ মামলার অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর মানদণ্ডে অনুমোদিত সর্বাধিক ১ শতাংশের বিপরীতে ওয়েফার বিস্কুটটিতে ২.৩২ শতাংশ অম্লতা (অ্যাসিডিটি) পাওয়া যায়। আবরণে ব্যবহৃত চকলেটে অনুমোদিত ১২ থেকে ১৪ শতাংশের পরিবর্তে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ দুধের কঠিন পদার্থ ছিল। একই পণ্যে দুধের ফ্যাট বা চর্বির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ২৩ শতাংশ, যা মানসম্মত পরিমাণ ২.৫ থেকে ৩.৫ শতাংশ সীমার বেশ নিচে।
ওই খাদ্য পরিদর্শক বলেন, “উচ্চ অ্যাসিডিটি পচন নির্দেশ করে বা সহজভাবে বললে বোঝায় যে খাবারটি পচা।”
তার ভাষ্য, “মানদণ্ডের সীমার চেয়ে কম দুধের কঠিন পদার্থ এবং দুধের ফ্যাট থাকার অর্থ হলো, যে খাবারটিকে দুগ্ধজাত পণ্য হিসেবে বাজারজাত করা হয়, তাতে দুধের উপস্থিতি নেই।”
পরীক্ষাগুলো একটি সরকারি খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগারে করা হয়েছে বলে মামলায় তথ্য দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে নেসলে ভারত ও দুবাইয়ের আলাদা ল্যাবে খাদ্যপণ্যটি পরীক্ষা করার কথা তুলে ধরে বলেছে, অম্লতার যে কথা বলা হচ্ছে তা গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে থাকত, যদি বিএসটিআইয়ের মান কিটক্যাটের জন্য প্রযোজ্য হত। কিটক্যাট চকোলেট ওয়েফারের মত পণ্যের জন্য বিএসটিআই কোনো সুনির্দিষ্ট মানই প্রতিষ্ঠা করেনি।
“যা হোক, বিএসটিআই যেমনটি নিশ্চিত করেছে কিটক্যাট পণ্য তাদের বিদ্যমান কোনো মানের অধীনে পড়ে না।”
বর্তমানে বাংলাদেশে উৎপাদিত একটি চকোলেট-কোটেড ওয়েফারের সর্বোচ্চ দাম ২০ টাকা। তবে নেসলের বাজারজাত করা কিটক্যাট ভারত থেকে আমদানির পর বাংলাদেশে ৬০ থেকে ১৩৫ টাকা দামের মধ্যে বিক্রি হয়।
নেসলে বাংলাদেশের কোম্পানি সচিব দেবব্রত রায় চৌধুরী বলেন, “কিটক্যাট এর মত প্রোডাক্টের জন্য বিএসটিআই কোনো ‘স্ট্যান্ডার্ড ডেভেলপ’ করেনি। যে কারণে কিটক্যাটে কিন্তু বিএসটিআই’র কোনো সিল থাকে না। তারা যে স্ট্যান্ডার্ড ডেভেলপ করেছে সেটা চকলেট বিস্কুটের। এ বিষয়ে তারা আমাদের একটি এনওসি দিয়েছে।”
দুবাই ও ভারত থেকে কিটক্যাট আমদানি করার দাবি করে এ কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের এই পণ্য পরীক্ষা করে সরকারের আরেকটি সংস্থা বিসিএসআইআর। প্রত্যেকটা কনসাইনমেন্ট ছাড়ের জন্য এ পণ্য পরীক্ষার পর বিসিএসআইআর এর প্রতিবেদন নেওয়া হয়। সেটি দেখেই পণ্যটির ছাড়পত্র দেয় কাস্টমস।”
নেসলের পণ্যে গড়বড় করার কোনো সুযোগ নেই দাবি করে কোম্পানি সচিব বলেন, “সারা পৃথিবীতে কিটক্যাট প্রোডাক্টটা বিক্রি হয়। ওটা খুবই সংবেদনশীল, যে কারণে ওটা একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়।”