Published : 19 Jan 2026, 11:59 PM
বর্তমানে যে তারল্য আছে, তাতে ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলো ‘ভালো গ্রাহক’ খুঁজতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
সোমবার সন্ধ্যায় গুলশান পুলিশ প্লাজায় এমসিসিআই কার্যালয়ে এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতি খুব খারাপ অবস্থা থাকার সময় দায়িত্ব শুরু করেছিলাম। তারল্য পরিস্থিতি খারাপ ছিল। প্রথমত, বৈদেশিক মুদ্রার দিক থেকে।”
সরকার চলতি অর্থবছর ব্যাংক থেকে ১ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারে তুলে ধরে গভর্নর বলেন, "আমানতকারীরা আস্থা পাওয়ায় ব্যাংকে টাকা বাড়ছে। গত ডিসেম্বরে ১১ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধি হয়, আমি প্রত্যাশা করেছিলাম ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে।"
তিনি বলেন, "ব্যাংকের কাছে এখন যে তারল্য আছে, তাতে ভালো গ্রাহক খুঁজে ঋণ দিতে তারা বাধ্য হবে। এতে আশা করছি, ভালো গ্রাহকদের সুদহার ২ শতাংশ কমে যাবে।”
‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য পালস অব ইকোনোমি থ্রো পার্চেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স’ শিরোনামে এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।
আগামীতে বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি আরো সহজ করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে গভর্নর বলেন, "বাংলাদেশের করপোরেট ফ্লাগ বিদেশের মাটিতে দেখতে চাই।”
তিনি বলেন, "বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে ক্রান্তিকাল চলে গেছে। এখন আমাদের রিজার্ভ বেড়েছে, আমদানি প্রবৃদ্ধি গত ডিসেম্বরে ৬ শতাংশ বেড়েছে। ব্যালেন্স অব পেমেন্ট নিয়ে যে খারাপ সময় ছিল, তা পার করে এসেছি, আরামদায়ক অবস্থায় এসেছি।"
সামষ্টিক অর্থনীতি আরো ভালো অবস্থায় যাওয়ার প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব বাজারে এলএনজির দাম কমে গেছে। ভোগ্যপণ্যর দামও স্থিতিশীল অবস্থায় চলে এসেছে।
সেমিনারে ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনের উপ রাষ্ট্রদূত জেমস গোল্ডম্যান বলেন, “বাংলাদেশে বিনিয়োগে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী ব্রিটেন। আমাদের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিতে অংশীদারত্ব বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।”
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ ও এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমানও বক্তব্য দেন।