আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক এডিসি শাহেন শাহ
“তিনি জামিন পাওয়ার হকদার। জামিন দিলে পলাতক হবেন না,” আদালতকে বলেন আইনজীবী।
শেখ হাসিনার পতনের দিনে ঢাকার আদাবরে পোশাক শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক এডিসি শাহেন শাহকে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহেসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
ডিবি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ টিপু সুলতান শাহেন শাহকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন রোববার।
এদিন শুনানিকালে তাকে এই গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে আদালতে তোলা হয়। এরপর আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।
এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে শাহেন শাহর জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী সরোয়ার হোসাইন বিপ্লব।
শুনানিতে তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা থেকে শাহেন শাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি বিনা বিচারে কারাগারে রয়েছেন।
“তিনি তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তার অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা অর্ধাহারে-অনাহারে এবং অসহায়ভাবে জীবন-যাপন করছেন।”
শাহেন শাহের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে আইনজীবী বলেন, “তিনি জামিন পাওয়ার হকদার। জামিন দিলে পলাতক হবেন না। তার জামিনের প্রার্থনা করছি।”
শুনানি নিয়ে আদালত শাহেন শাহের জামিন আবেদন নামঞ্জুরের আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের শেষ দিন অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা সকাল ১১টার দিকে আদাবরের রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এসময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষকলীগ, মৎসজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হন।
একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ অগাস্ট আদাবর থানায় মামলা করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।
২০২৪ সালের গত ১৭ অক্টোবর ঢাকার বেইলি রোড এলাকা থেকে শাহেন শাহকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। রাজধানীর তেজগাঁও থানার কারওয়ান বাজার এলাকায় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রূপকে গুলি করে হত্যার মামলায় তাকে তিন দিনের রিমান্ডেও পাঠানো হয়।
এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করা হয়।
