Published : 28 Jun 2026, 06:56 PM
ফুটবল বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বাড়ানো একদমই পছন্দ হয়নি কার্লোস কেইরসের। ঘানার অভিজ্ঞ কোচের মতে, এতে বিশ্ব মঞ্চে জায়গা পাওয়ার গৌরব ও মাহাত্ম্য কমে গেছে। ভবিষ্যতে সাধারণ একটা টুর্নামেন্টে পরিণত হতে পারে বিশ্বকাপ, এমন শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, পঞ্চম বিশ্বকাপে ডাগআউটে দাঁড়ানো কেইরস ফুটবল খেলায় এখন আর আগের মতো সেই আবেগটা দেখেন না। ৭৩ বছর বয়সী পর্তুগিজ কোচের কাছে, এখন ফুটবল হয়ে গেছে ‘মানিবল’, যেখানে অর্থটাকেই দেওয়া হচ্ছে বেশি প্রাধান্য।
৩২ থেকে ৪৮ দল, এক লাফে ১৬ দল বাড়িয়ে হচ্ছে উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ। তাতে ম্যাচের সংখ্যাও হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ৩২ দলের আসরে ম্যাচ হতো ৬৪টি। আর এবার ম্যাচ হবে মোট ১০৪টি। এতে স্বাভাবিকভাবেই বড় অঙ্কের লাভ করবে ফিফাসহ আয়োজক তিন দেশ-যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।
এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকা অঞ্চল থেকে ১০টি দলকে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা গতবারের দ্বিগুণ। এর মধ্যে ‘নতুন রাউন্ড’ শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে নয়টি, কেবল বাদ পড়েছে তিউনিসিয়া।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে ২-১ গোলে হারলেও, সেরা তৃতীয় হওয়া আট দলের একটি হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে ঘানা। ৩২ দলের টুর্নামেন্ট হলে, পরের ধাপে যাওয়া হতো না ঘানার।
তবুও দল বাড়ানোকে ভুল সিদ্ধান্তই মনে হচ্ছে কেইরসের।
“আমার জীবনে সাধারণ কিংবা অতি সাধারণ কোনো জিনিসের বিশাল মূল্য হতে দেখিনি। তাই বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া দলের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমার ভয় হচ্ছে যে, এই প্রতিযোগিতাটি একসময় মর্যাদা হারিয়ে খুব সাধারণ ও সস্তা একটি টুর্নামেন্টে পরিণত হতে পারে।”
এবার ৫৩টি আফ্রিকার দেশের মধ্যে নয়টি সরাসরি বিশ্বকাপের টিকেট পায়। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে লড়াই করে আফ্রিকার দশম দেশ হিসেবে বিশ্ব মঞ্চে ফেরে ডিআর কঙ্গো।
বাছাই পর্ব থাকলেও, কেইরস বিশ্বাস করেন, অনেক অঞ্চলেই এখন বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচগুলোর গুরুত্ব ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
দক্ষিণ আমেরিকা থেকে বাছাইয়ে অংশ নেওয়া ১০টি দেশের অর্ধেকের বেশি বিশ্বকাপে জায়গা পায়। সেটি নিয়ে একটু ব্যঙ্গ করে কেইরস বলেন, “দক্ষিণ আমেরিকায় এখন একজন কোচের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন না করা।”
“এমনকি ইউরোপ ও আফ্রিকার বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোও তাদের তাৎপর্য ও গুরুত্ব হারাতে শুরু করেছে, কারণ প্রায় সবাই যোগ্যতা অর্জন করছে।”
গত এপ্রিলে ঘানার দায়িত্ব নেন কেইরস। এর আগে চারবার বিশ্বকাপে কোচের দায়িত্ব পালন করেন তিনি; ২০১০ সালে নিজ দেশ পর্তুগালের কোচ ছিলেন, আর পরের তিন আসরে ছিলেন ইরানের কোচ।
ফুটবলে অর্থের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কেইরস।
“আজকের দিনে ফুটবলে অর্থই শেষ কথা। অর্থ কথা বলে। আর এটাকে ফুটবল বলা চলে না, এটা হয়ে গেছে ‘মানিবল।’ যখন অর্থ কথা বলতে শুরু করে, তখন মাঠের ভেতরের সিদ্ধান্তগুলোও বদলে যেতে শুরু করে।”
শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় সকালে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে ঘানা।