Published : 26 Apr 2026, 08:15 PM
তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের একটি উৎপাদন ইউনিট থেকে অন্য ইউনিটেও পণ্যের উপকরণ ও মালামাল আনা-নেওয়ার সময় ‘রাস্তাঘাটে আটকে’ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) কর্মকর্তারা ‘বিরক্ত করে’ বলে অভিযোগ করেছেন এক ব্যবসায়ী নেতা।
এমন অভিযোগ তুলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানকে বলেন, “ভ্যাটের লোকজন এখনো রাস্তাঘাটে ডিস্টার্ব করে। যেমন- মনে করেন আমার তিন জায়গায় তিনটা ইউনিট আছে। একটা থেকে আরেকটাতে মাল যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে আটকে ভ্যাটের লোকজন ডিস্টার্ব করে। এটাকে অন্তত দয়া করে বন্ধ করেন। প্রতিদিন আমার কাছে অসংখ্য অভিযোগ আসে এই বিষয়ে।”
রোববার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে এনবিআর আয়োজিত আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনের পক্ষে প্রস্তাব তুলে ধরার পর আলোচনার শেষ দিকে এনবিআর চেয়ারম্যানকে এ অভিযোগ করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
বিকেএমইএ বাজেট প্রস্তাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রপ্তানির বিপরীতে দশমিক ৫ শতাংশে উৎসে কর স্থির রাখার দাবি জানায়।
এসময় ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও ‘ব্যাটারি আমদানির বিধিনিষেধ’ এবং ‘কাস্টমস জটিলতায়’ এ শিল্পের উদ্যোক্তারা ‘বাধার মুখে পড়ছেন’ বলে দাবি করেন সংগঠনের সভাপতি হাতেম।
তিনি বলেন, “সোলার সিস্টেমটা এই মুহূর্তে আমাদের জন্য (গুরুত্বপূর্ণ) হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকট এবং জ্বালানি সংকটের কারণে।
“এতদিন নেট মিটারিং ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে মাস শেষে বিল সমন্বয় করা হত। কিন্তু বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানা চালু রাখতে সোলার সিস্টেমকে ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য ব্যাটারি স্টোরেজ অপরিহার্য হলেও আমদানিতে নানা বিধিনিষেধ থাকায় উদ্যোক্তারা সমস্যায় পড়ছেন।”
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “দুই-তিন ঘণ্টার লোডশেডিং মোকাবিলায় সোলার জেনারেটর মোডে যেতে হলে ব্যাটারি প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে আমদানি নীতিতে নমনীয়তা দরকার, যাতে আমরা বিদ্যুৎ ঘাটতি নিজেরাই মোকাবিলা করতে পারি।”
এমন একটি অভিযোগ তুলে ধরে হাতেম বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরে সোলার সিস্টেমের যন্ত্রাংশ আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। একটি প্রতিষ্ঠানের ৪ মেগাওয়াট সোলার প্রকল্পের জন্য আমদানি করা মাউন্টিং স্ট্রাকচার কাস্টমস ছাড় দিচ্ছে না। যদিও এ বিষয়ে পূর্বে একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা পোর্ট ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।”
এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, “এ ধরনের অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখব। একসাথে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন না হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।”
প্রাক বাজেট এ বৈঠকে এনবিআর কর্মকর্তাদের হয়রানি নিয়ে অভিযোগ করেন আরেক ব্যবসায়ী নেতা বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিটিএলএমইএ) সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরের কাস্টমস, আয়কর পরিদর্শকদের অত্যাচার বন্ধ করেন। আমরা কোনো জিনিস কমানোর জন্য বলব না, যা চাইবেন তাই দিব।
“ঘুষ বন্ধ করেন, কোনো দিন কোনো কিছু (করহার) কমানোর জন্য বলব না। একদম দায়িত্ব নিয়ে বলছি, কেউ বলবে না কমান।”
বিকেএমইএর তরফে বাজেট প্রস্তাবে রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তার ওপর বর্তমান ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার, সম্পদ বিক্রয়লব্ধ মুনাফা ও সাব-কন্ট্রাক্ট আয়ের ওপর ১২ শতাংশ একক করহার নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সাব-কন্ট্রাক্টের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।