দেশে ৩ বছরে বন্ধ হয়েছে ৪০২ পোশাক কারখানা: বাণিজ্যমন্ত্রী
সরকারের হিসাবে, বিজিএমইএর সদস্য কারখানা বন্ধ হয়েছে ২৮২টি; বাকি ১২০টি বিকেএমইএর।
তিন বছরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য ৪০২টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তার হিসাবে, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন— বিজিএমইএর সদস্য কারখানা বন্ধ হয়েছে ২৮২টি। বাকি ১২০টি কারখানা নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন— বিকেএমইএর সদস্য।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রুহুল আমিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য দেন।
মুক্তাদির বলেন, “২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এসব কারখানা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ কারখানাগুলোর নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংগ্রহের কাজ চলছে।”
গত ২২ জুন বিজিএমইএ থেকে পাওয়া প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে কারখানা বন্ধের কয়েকটি কারণও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এর মধ্যে রয়েছে কোভিড মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা।
অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকটও পোশাক কারখানা বন্ধের একটি কারণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বিদেশি ক্রেতাদের ছোট ও মাঝারি কারখানায় রপ্তানি আদেশ দিতে অনাগ্রহের কথাও রয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর উন্নত দেশগুলোর দেওয়া কিছু অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা হারানোর আশঙ্কার কথাও সংসদে তুলে ধরেন মুক্তাদির।
তিনি বলেন, এর প্রভাবে ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা সিইপিএ করার প্রক্রিয়া চলছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরসিইপি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনসহ রপ্তানির সম্ভাবনা থাকা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইপিএ, সিইপিএ বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পোশাক খাত থেকে ৪৪ হাজার ৫০৫ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য রয়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে পোশাক রপ্তানি থেকে ৩ হাজার ৮৮৬ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পোশাক খাত থেকে ৪ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য রয়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে পোশাক রপ্তানি থেকে ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার আয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।
