Published : 23 Jul 2026, 02:29 PM
মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) দেখা দেওয়া কারিগরি ত্রুটির কারণ এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
স্থানীয় প্রকৌশলীরা সমাধান করতে না পারায় বিদেশি বিশেষজ্ঞদের আনা হচ্ছে। তারা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এফএসআরইউটি পরীক্ষা করার পর মেরামতে কত সময় লাগতে পারে এবং কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের স্থাপনা প্রধান ও উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “স্থানীয় প্রকৌশলীরা এফএসআরইউটি পরীক্ষা করেছেন। তবে ত্রুটির কারণ শনাক্ত বা সমাধান করা যায়নি। সে কারণে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি বিদেশি বিশেষজ্ঞ আনছে।”
এর আগে ওই এফএসআরইউতে এমন ত্রুটি দেখা যায়নি বলে নাছিরের ভাষ্য।
সমুদ্রপথে আনা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এফএসআরইউতে গ্রহণ ও সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেটি আবার গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হয়।
ফলে এ টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ হলে গ্রিডে এলএনজি থেকে পাওয়া গ্যাসের সরবরাহও কমে যায়।
নাছির বলছেন, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে ত্রুটির ধরন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং মেরামতের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় টার্মিনাল পরিচালনাকারী কোম্পানির কোনো দায় আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটাও এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
“বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের পর অপারেটরের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতি ও দায় নির্ধারণ করা হবে। অপারেটরকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কি না, কোনো জরিমানা করা হবে কি না কিংবা মেরামতের ব্যয় কে বহন করবে, সেসব বিষয়েও চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।”
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বুধবার ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক এক নীতি আলোচনায় বলেন, এফএসআরইউতে যখন আগুন দেখা দেয়, তখন একটি এলএনজিবাহী জাহাজ এফএসআরইউতে ভেড়ার প্রক্রিয়ায় ছিল। জাহাজটি সরে যাওয়ায় ‘বড় ধরনের দুর্ঘটনা’ এড়ানো গেছে।
দেশে এলএনজি গ্রহণ ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের জন্য মাত্র দুটি এফএসআরইউ থাকায় একটিতে সমস্যা দেখা দিলেই সরবরাহব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একটি এফএসআরইউ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে এলএনজি থেকে পাওয়া গ্যাসের সরবরাহ কমেছে। তাতে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনসহ অন্য গ্রাহকেরা চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না।
মন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো হলেও কেন্দ্রগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি অনুসন্ধান ও আমদানি অবকাঠামো একই হারে গড়ে তোলা হয়নি।
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত কাজ না হওয়ায় জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। কিন্তু এলএনজি গ্রহণের পর্যাপ্ত বিকল্প অবকাঠামো তৈরি করা হয়নি বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
এফএসআরইউটি বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমেছে বলে বুধবার জানিয়েছিল জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী ।
তিনি বলেছিলেন, এর প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের ওপর পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস নিতে পারছে না।
ফলে কয়েকটি স্থানে সিএনজি নিতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, সীমিত সরবরাহের মধ্যে জরুরি ও অগ্রাধিকার খাতে গ্যাস দেওয়া অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে সরকার।
বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউটির কারিগরি ত্রুটি হলেও দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে চলা আমদানিনির্ভরতার কারণে এর প্রভাব আরও তীব্র হয়েছে বলে মনির হোসেনের ভাষ্য।