Published : 12 Jun 2024, 09:01 PM
মোবাইল ব্যবহারের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১০০ টাকা সিম ট্যাক্স আরোপকে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ বলছে মোবাইল অপারেটরগুলো।
তাদের ভাষ্য, নানা কারণেই গত বছরের শেষ প্রান্তিক থেকে তাদের ব্যবসায় ‘নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি’ হচ্ছে। এর মধ্যে এর কর ও শুল্কের বোঝা গ্রাহকদের আরও ব্যবহার কমাতে বাধ্য করবে।
সরকার যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে এটা করছে সেটা শুল্ক কমিয়ে গ্রাহকের মোবাইল ব্যবহার বাড়িয়েও বাস্তবায়ন সম্ভব বলেও মত দিয়েছে তারা।
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বুধবার দুপুরে বাংলাদেশে মোবাইল অপারেটরগুলোর সংগঠন- এমটব এর বনানীর কার্যালয়ে এর আলোচনায় বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটরদের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য তুলে ধরেন রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম।
আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার হ্যান্স মার্টিন হেনরিক্সন এবং এমটব মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার।
সাহেদ আলম বলছেন, “অন্য কোনো শিল্পখাতের সঙ্গে মোবাইল সেবা খাতের তুলনা চলে না। এখানে দাম কমালে আমাদেরও আয় বাড়বে, সরকারেরও বাড়বে। কারণ, তাতে গ্রাহক বাড়বে, ব্যবহার বাড়বে। আমরা সেই বার্তাটাই সরকারকে দিতে চাচ্ছি যাতে মোবাইল ব্যবহারের শুল্ক ও কর একটা যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়।”
এখন যে কর আরোপ করা হয়েছে তাতে ১০০ টাকার মোবাইল সেবা ব্যবহারে গ্রাহকদের সর্বমোট ৩৯ টাকা কর দিতে হবে বলেও জানান তিনি। এটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। গ্রাহক পর্যায়ের এই কর ও শুল্কসহ মোবাইল কোম্পানিগুলোর রাজস্ব আয়ের মধ্যে ৫৮ শতাংশই চলে যায় সরকারের কোষাগারে।
এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের কর, শুল্ক, সারচার্জ, মিনিমাম ট্যাক্স এবং বিটিআরসির নানা সেবা ও লাইসেন্সের ফি হিসেবে।
পদ্মা সেতু তৈরির জন্য ১ শতাংশ হারে সারচার্জ এখনো রয়ে গেছে জানিয়ে সাহেদ বলেন, “সম্পূরক শুল্ক পাঁচ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব মিলবে। তবে করের পরিবর্তে ডাটা ব্যবহার বাড়িয়ে এই রাজস্ব আদায় সম্ভব।”
দেশের প্রধান তিন অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক গত বছরের শেষ প্রান্তিক থেকে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির দিকে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আগের প্রান্তিকের চেয়ে রাজস্ব আয় কমছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হারাতে পারেন।”
‘কর কম থাকলে রাজস্ব বাড়ে’
সাহেদ আলম বলেন, “আমরা স্টাডি করে দেখিয়ে দিয়েছি যে শুল্ক ও কর কম থাকলে রাজস্ব আয় বেশি হয়। যখন প্রতিটি সিমের জন্য ৮০০ টাকা ট্যাক্স বসানো হয়েছিল তখন যে রাজস্ব আয় হয়েছে, তার চেয়ে বেশি রাজস্ব এসেছে সিম ট্যাক্স কমিয়ে ১০০ টাকা করার পর।”
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে বাংলাদেশের মানুষেই মধ্যে সবচেয়ে কম মোবাইল ব্যবহার করেন জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতে গড়ে প্রতিমাসে একজন গ্রাহক ১৯ জিবি ডেটা ব্যবহার করেন, যেখানে বাংলাদেশে একজন গ্রাহকের মাসে ব্যবহার গড়ে সাড়ে ৬ জিবি।
আলোচনায় উপস্থাপিত তথ্য বলছে, বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের দেশে ১৯ কোটি ২২ লাখ সিমকার্ডধারী গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন ১২ কোটির বেশি গ্রাহক। তবে নিয়মিত ব্যবহার করছেন ৮ কোটির মত গ্রাহক।
“অর্থাৎ আমাদের অর্ধেকের মতো জনগোষ্ঠী ইন্টারনেটের বাইরে আছেন। সরকার শুল্ক-কর বাড়ানোর ফলে মোবাইল ব্যবহার বেড়ে গেলে গ্রাহকদের ব্যবহারের অভ্যাস আরও কমবে বলে আমরা মনে করছি”, বলেন সাহেদ আলম।
সরকার কর ও শুল্ক না কমালে ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম কমানো সম্ভব না বলেও জানিয়ে দেন তিনি। বলেন, “এখন বাংলাদেশের ট্যাক্সি ডাকা থেকে শুরু করে ভূমি, লাইসেন্সসহ অনেক সরকারি সেবাই ইন্টারনেট নির্ভর। আর এই ইন্টারনেট নির্ভরতার মূল ভিত্তি হচ্ছে মোবাইল ইন্টারনেট। এই খাতে এত বেশি কর আরোপ স্মার্ট বাংলাদেশের ধারণার উল্টোপথে হাঁটা।”