ওয়ালটনের মেলা উদ্বোধনে বাণিজ্যমন্ত্রী
তিন দিনের মেলাটিতে ৫০ হাজারেরও বেশি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যাটেরিয়ালস, কম্পোনেন্টস, সার্ভিসেস এবং টেস্টিং ফ্যাসিলিটিস প্রদর্শন করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিপণ্য উদ্ভাবন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানিতে ওয়ালটনকে বাংলাদেশের আইকন হিসাবে বর্ণনা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
তিনি বলেছেন, “ওয়ালটন বাংলাদেশের আইকন। আমাদের কাছে একটা বিস্ময় ও আলোকবর্তিকা। এমন কোনো নিত্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স পণ্য নেই- যা ওয়ালটন তৈরি করছে না।”
বৃহস্পতিবার ঢাকার কুড়িলে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ালটন আয়োজিত একক শিল্পমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ওয়ালটন জানিয়েছে, ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভান্সড কম্পোনেন্টস অ্যান্ড টেকনোলজি এক্সপো (এটিএস)’ শীর্ষক তিন দিনের এ মেলায় চার ক্যাটাগরিতে মোট ২১টি স্টলে ওয়ালটনের তৈরি ৫০ হাজারেরও বেশি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যাটেরিয়ালস, কম্পোনেন্টস, সার্ভিসেস এবং টেস্টিং ফ্যাসিলিটিস প্রদর্শন করা হচ্ছে। এসবের বেশির ভাগই সব ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধাপে প্রধান কাঁচামাল ও কম্পোনেন্টস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
টিপু মুনশি বলেন, ওয়ালটনের জন্য দেশের বিলিয়ন ডলারের আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। প্রচুর পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের রপ্তানি আয় ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অবদান রাখছে ওয়ালটন।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, “ওয়ালটনের উচ্চ প্রশিক্ষিত দক্ষ প্রকৌশলীরা সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মেশিনারিজে ৫০ হাজারের বেশি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যাটেরিয়ালস ও কম্পোনেন্টস তৈরি করছে। এসব কম্পোনেন্টস দেশের অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও যেন কাজে লাগাতে পারে, সেজন্য এটিএস এক্সপো আয়োজনের এই উদ্যোগ। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি একে অন্যের তৈরি কম্পোনেন্টস ব্যবহার করে, তবে উৎপাদন ব্যয় অনেক কমবে।”
ওয়ালটনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও গোলাম মুর্শেদ বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম একক কোনো বাংলাদেশি ব্র্যান্ড তার টেকনোলজি ও সলিউশন দিয়ে সক্ষমতা প্রদর্শনের আয়োজন করেছে। এটিএস এক্সপোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শিল্পখাত, দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরা হচ্ছে। সরকারের নীতি সহায়তা ও মানুষের আস্থা বজায় থাকলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে ওয়ালটন।”
অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রিতে বাংলাদেশের যে উত্থান, তার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে ওয়ালটন। তারা দেশে হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কারিগরি ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের জন্য এখন দেশের ভেতরেই কর্মসংস্থান তৈরি করেছে ওয়ালটন।
উদ্ভাবন ও গবেষণায় ওয়ালটন বহুদূর এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, “বাংলাদেশ এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এমন কোনো গ্রাম নেই, যেখানে ইলেকট্রনিক্স পণ্য নেই। সব জায়গায় ইলেকট্রনিক্স পণ্যের উপস্থিতি রয়েছে।”
