Published : 18 May 2026, 10:11 PM
জ্বালানি খাতের অস্থিরতা সামাল দিতে বাংলাদেশকে আরও ৩৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্ব ব্যাংক।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অর্থায়নে সহায়তার জন্য বাড়তি এ অর্থ দেওয়ার অনুমোদন ১৫ মে দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি।
সোমবার সংস্থার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনুমোদনের খবর দেওয়া হয়।
বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা) হিসাবে টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
এর আগে ‘জ্বালানিখাত নিরাপত্তা জোরদার প্রকল্পের’ আওতায় ২০২৫ সালের ১৮ জুন ৩৫ কোটি ডলার দিয়েছিল ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটি। এ প্রকল্প ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকার কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের চাহিদা পূরণে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। ইরান যুদ্ধের কারণে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে দামের ওঠানামা ও সরবরাহ ঝুঁকি বেড়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
“এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশে জ্বালানি ও সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতিরিক্ত এ অর্থায়ন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে এলএনজি আমদানির জন্য ব্যয়-সাশ্রয়ী অর্থায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
“এর মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোবাংলার এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধে সহায়তার পরিধিও বাড়বে।”
এ অর্থায়ন প্যাকেজের আওতায় ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) অর্থ পরিশোধের গ্যারান্টির পাশাপাশি অর্থায়নের সুবিধা দেবে। এটি স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) এবং স্বল্পমেয়াদী ক্রেডিট লাইনের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির মূল্য পরিশোধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অর্থায়নের ক্ষেত্রে এ সুবিধা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বাজারের যেকোনো ধরনের বিপর্যয় বা অস্থিরতার সময় সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রকে সহজ করবে। পাশাপাশি আরও সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি কেনার ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে এলএনজির দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশ আমদানি করা জ্বালানি ও গ্যাসের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
“জ্বালানি খাতের সংস্কার এবং যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে বিশ্ব ব্যাংক এলএনজি আমদানির অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। চড়া মূল্যের জ্বালানি ঘাটতি এড়াতে এবং অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকা রক্ষায় এটি অত্যন্ত জরুরি।”