Published : 28 Dec 2024, 07:45 PM
চার বছর পর আবার জাহাজ রপ্তানি করছে বাংলাদেশের কোম্পানি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। চট্টগ্রামের এ ইয়ার্ডে নির্মিত একটি নৌযান আগামী বছরের প্রথম সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছে।
‘রাইয়ান’ নামের ওই ল্যান্ডিং ক্র্যাফ্টটি কিনছে আরব আমিরাতের মারওয়ান শিপিং লিমিটেড। ২০২৫ সালের মধ্যে আরও সাতটি জাহাজ তাদের হস্তান্তর করার কথা রয়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিনের।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান শনিবার চট্টগ্রামের বোট ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মারওয়ান শিপিংয়ের কাছে চারটি ল্যান্ডিং ক্র্যাফ্ট ভ্যাসেল, দুটি টাগবোট এবং দুটি অয়েল ট্যাঙ্কারসহ আটটি জাহাজ বিক্রির জন্য গত বছর চুক্তি করেছিলেন তারা। এর অংশ হিসেবেই ‘রাইয়ান’ জাহাজটি হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৬৯ মিটার দৈর্ঘ্যের ও সাড়ে চার মিটার গভীরতার ‘রায়ান’ তৈরির কাজ শেষ। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সেটি ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

‘খালিদ’ ও ‘ঘায়া’ নামে দুটি উচ্চক্ষমতার টাগবোট আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে রপ্তানি করা হবে। বাকি পাঁচটি জাহাজ আগামী বছরের বিভিন্ন সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ক্যাপ্টেন সোহেল বলেন, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডে নির্মিত সর্বশেষ জাহাজ রপ্তানি হয়েছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে।
“২০১৭ সালেও একই ক্রেতার কাছে আমরা একটি ল্যান্ডিং ক্র্যাফ্ট রপ্তানি করেছিলাম। তারা আমাদের কাজে সন্তুষ্ট হয়ে আবারও জাহাজ নির্মাণের জন্য এসেছে।”
দেশের অন্যতম শীর্ষ জাহাজ রপ্তানিকারক কোম্পানি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড এ পর্যন্ত বিশ্বের ১১টি দেশে ৩৩টি জাহাজ রপ্তানি করেছে, যেগুলোর দাম সব মিলিয়ে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।
নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে চট্টগ্রামের এই জাহাজ নির্মাণ কোম্পানি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী জানুয়ারির মধ্যে ওয়েস্টার্ন মেরিন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনের কাছে এমভি রূপসা ও এমভি সুগন্ধা নামে দুটি যাত্রীবাহী জাহাজ হস্তান্তর করবে।

জাহাজ নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২২ সালে নারাযণগঞ্জের আনন্দ শিপইয়ার্ডে নির্মিত একটি জাহাজ ডেনমার্কে রপ্তানি হয়েছিল। এরপর দেশে নির্মিত আর কোনো জাহাজ রপ্তানি হয়নি।
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড নির্মিত জাহাজটি আরব আমিরাতে রপ্তানির মধ্য দিয়ে জাহাজ রপ্তানি শিল্পের খরা কাটবে বলে আশা করছেন তারা।
কোম্পানির এমডি সোহেল হাসান বলেন, “গত কয়েক বছর আমাদের খারাপ সময় গেছে। দুঃসময় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে সরকার এবং বিভিন্ন এজেন্সির সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।”