১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাশিয়ার তেল মিলবে? মন্ত্রী বললেন, ‘বিকল্প উৎস’ হিসেবে ভাবছি

“রাশিয়ার তেল কিনতে পারবে ইন্ডিয়া; আমরাও চাইছি; বলেছি, ‘বাংলাদেশ কেন নয়,” বলেন আমির খসরু।

রাশিয়ার তেল মিলবে? মন্ত্রী বললেন, ‘বিকল্প উৎস’ হিসেবে ভাবছি
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Mar 2026, 08:34 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:08 PM

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ‘বিকল্প উৎস’ হিসেবে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সায় পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “এটা দেখতে হবে; আমাদের তো অনেক উৎস আছে এলএনজি কেনার। আমরা সেগুলো বাছাই করতেছি। এলএনজি অনেক চলেও আসছে।

“বিকল্প উৎস হিসেবে আমরা এটা (রাশিয়ার তেল) চিন্তা করতেছি। আমি ওইদিন (বুধবার) তো বলেছি ইউএসকে ওয়েভারের জন্য। ওয়েভার যেহেতু তারা আগেও দিয়েছে, আমরাও চেয়েছি।”

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বুধবার ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের কাছে রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে সায় চান অর্থমন্ত্রী। 

পরের দিন বৃহস্পতিবার তিনি বৈঠক করলেন বাংলাদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত জি খোজিনের সঙ্গে। 

শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। পরে এ বিষয়ে তার কাছে অগ্রগতি জানতে চান সাংবাদিকরা। 

মন্ত্রী বলেন, “ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে কিন্তু ওয়েভার দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইন্ডিয়াকে ওয়েভার দিয়েছে, টেম্পোরারি ওয়েভার দিয়েছে। রাশিয়ার তেল কিনতে পারবে ইন্ডিয়া। আমরাও চাইছি। “বলেছি, হোয়াই নট বাংলাদেশ? বাংলাদেশকে ওয়েভার দাও। আমাদের ইকোনমির জন্য বিগ সাপোর্ট হবে এটা। ওরা বলেছে, ওরা ওয়াশিংটনে পাঠাবে। দেখা যাক কী হয়।”

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও কথা হয় বলে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, “সামনের বছর তো একটি বড় চ্যালেঞ্জ আসবে জ্বালানিতে। এছাড়া আমাদের কিছু সমস্যাও আছে জ্বালানিতে। তবে এনার্জিতে বড় সম্ভাবনাও আছে। আমাদের এই নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের ব্যাপারে। যেটা শুরু হতে যাচ্ছে ৭ এপ্রিল।

“এতে ১২০০ মেগাওয়াট মিলবে ডিসেম্বরের মধ্যে। এটাই পরিকল্পনা আছে। পরের বছর আরো ৬০০ মেগাওয়াট যোগ হবে। দেখা যাক, অনেক ‘কো-অপারেশন’ আছে।”

কবে নাগাদ বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে এখান থেকে, এমন প্রশ্নে খসরু বলেন, “জুন-জুলাই কিংবা অগাস্টে সম্ভবত।”

এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণের অর্থ পরিশোধ নিয়ে কোনো ‘ইস্যু’ রয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নও তোলা হয় মন্ত্রীর সামনে। 

তার ভাষ্য, “না, ইস্যু হচ্ছে আমাদের তো এখন জরুরি ভিত্তিতে উৎপাদনে যেতে হবে; এটা আমাদের গ্রিডে যোগ করতে হবে।

“এটা আমাদের জন্য শিগগিরিই দরকার। কারণ, আমাদের কাছে জ্বালানি নিরাপত্তা বড় বিষয়। আমাদেরকে যেকোনোভাবেই এর একটা সমাধানে আসতে হবে।”

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা থেকে যাওয়ার আগ মুহূর্তে এ প্রকল্পে ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করে।

ব্যয় বৃদ্ধির পুরো অর্থই মিলবে প্রকল্প ঋণ থেকে। তাতে প্রকল্পের খরচ ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকায়।

প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে পাবনার রূপপুরে। 

সেখানে দুটি ইউনিটে ১২০০ মেগাওয়াট করে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

এই নির্মাণ ব্যয়ের ১০ শতাংশের অর্থায়ন করার ছিল সরকারের, বাকি ৯০ শতাংশ রাশিয়া ঋণ হিসাবে দিচ্ছিল।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ হবে ৬০ বছর। পরে তা আরও ২০ বছর বাড়ানো যাবে।

২০১৩ সালের অক্টোবরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লি ও পানি শীতলকারী ডোমের কংক্রিট ঢালাই কাজ উদ্বোধন করেন।

২০২১ সালের শুরুতে একটি ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও মহামারীর জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। পরে ইউক্রেইন যুদ্ধসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ আরো বিলম্বিত হয়। সংশোধিত অনুমোদনের ফলে প্রকল্প শেষ হওয়ার সময় ধরা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।

আরও পড়ুন

রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের সায় চায় বাংলাদেশ

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা