আমদানি-রপ্তানিতে ডলার দরের ব্যবধান বেড়ে ১০ টাকা হল

বাংলাদেশ ব্যাংকও ডলার বিক্রিতে দর এক টাকা বাড়িয়েছে।

শেখ আবু তালেববিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Sept 2022, 05:45 PM
Updated : 12 Sept 2022, 05:45 PM

অভিন্ন দরে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় করতে বাফেদা ও এবিবি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, প্রথম দিন অনেক ব্যাংকই তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

আবার যে কয়টি ব্যাংক প্রথম দিনে বাস্তবায়য়ন করেছে, তাদের আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে ডলারের ব্যবধান বেড়ে ১০ টাকা হয়েছে। অথচ অভিন্ন দর নির্ধারণের আগে তা ৫-৭ টাকার মধ্যে ছিল।

অন্যদিকে ৯৯ টাকা দরে রপ্তানি বিল নগদায়ন ঘোষণা বাস্তবায়নের প্রথম দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকও ডলার বিক্রিতে দর এক টাকা বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সোমবার তারা বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিক্রি করেছেন ৯৬ টাকা দরে।

গত রোববার পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার বিক্রির দর ছিল ৯৫ টাকা। এর আগে ৯৪ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে গত ৮ অগাস্ট ডলারের দাম বাড়িয়ে ৯৫ টাকা করা হয়েছিল।

গত রোববার মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত মেনে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে ডলার কেনাবেচার অভিন্ন দর ঘোষণা করে বাংলাদেশ ফরেইন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন-বাফেদা এবং ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি।

সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশে আসা রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে ডলারের বিনিময় হার হবে সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা। রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারে সর্বোচ্চ ৯৯ টাকা পাবেন ব্যবসায়ীরা।

আর আমদানির এলসি খোলার ক্ষেত্রে বিনিময় হার নির্ধারণ করা হবে রেমিটেন্স ও রপ্তানির বিনিময় হারের ওয়েটেড গড় করে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ওয়েটেড গড় হারের সঙ্গে অতিরিক্ত ১ টাকা বেশি নিতে পারবে; অর্থাৎ স্প্রেড সীমা হবে ১ টাকা।

Also Read: ডলারের বিনিময় হার বেঁধে দিল বাফেদা

সেই সিদ্ধান্ত কার্যকরের প্রথম দিনে অনেক ব্যাংকই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তবে রাষ্ট্রায়ত্তসহ কয়েকটি ব্যাংক বাফেদার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে।

এ বিষয়ে এবিবি চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আরএফ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফার ডটকমকে বলেন, “প্রথম দিন রেট শিট তৈরি করতে গিয়ে কিছু সমস্য দেখা দেয়, বিকেলে অবশ্য তা ঠিক হয়ে গিয়েছে।

“এখন থেকে প্রতিদিন ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানরা বসে তা ঠিক করে নেবেন। দু-এক দিনের মধ্যে আশা করছি পুরো বাস্তবায়ন হবে।”

ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক বাফেদার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রপ্তানি বিল নগদায়ন করেছে ৯৯ টাকায়।

অর্থাৎ পণ্য রপ্তানির পর উদ্যোক্তারা প্রতি ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৯৯ টাকা পাবেন ব্যাংকের কাছ থেকে।

সোনালী ব্যাংক ১০৮ টাকা দরে রেমিটেন্স আনলেও আমদানি পর্যায়ে ডলার বিক্রি করেছে ১০৭ টাকা ৯০ পয়সায়।

এতে আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে ডলারের দরের ব্যবধান হয়েছে ৮ টাকা ৯০ পয়সা।

আর বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংক সোমবার রপ্তানি বিল নগদায়ন করেছে সর্বোচ্চ ৯৯ টাকায়। আমদানিতে ডলার বিক্রি করেছে ১০৮ টাকা ৫০ পয়সায়।

ব্র্যাক ব্যাংক সোমবার আমদানিতে ডলার বিক্রি করেছে ১০৫ দশমিক ৩০ টাকা। আর নগদ অর্থে ডলার বিক্রি করেছে ১০৭ টাকা দরে।

ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) নগদে ডলার বিক্রি করেছে ১০৪ টাকা দরে। আর আমদানি পর্যায়ে বিক্রি করেছে ১০৩ টাকা দরে এবং রপ্তানি বিল নগদায়ন করেছে ঠিকই সর্বোচ্চ ৯৯ টাকা দরে।

ঢাকা ব্যাংক আমদানিতে ডলার বিক্রি করেছ ১০৬ টাকা ৪৪ পয়সায়। আর নগদে ডলার বিক্রি করেছ ১০৩ টাকা দরে।

আবার ডাচ বাংলা ব্যাংক আমদানিতে ডলার বিক্রি করেছে ১০৪ টাকা ৪৫ পয়সায়।

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক ডলার বিক্রি করেছে আমদানি পর্যায়ে ১০৫ টাকা ৯৫ পয়সায় এবং নগদ অর্থে ১০৪ টাকা দরে।

সঙ্কটে থাকা ব্যাংকগুলো দেশের অন্য ব্যাংকে ডলার না পেয়ে আমদানি দায় মেটাতে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে বা অন্য ব্যাংকের কাছ থেকে উচ্চ দরে ডলার কিনতে বাধ্য হয়। কখনও কখনও গ্রাহককেও ডলার সংগ্রহ করতে হয়।

এ সময়ে ব্যাংকে নগদ ডলারের দর ওঠে ১০৭ টাকা, আর খোলা বাজারে এক পর্যায়ে তা রেকর্ড ১২১ টাকায় ওঠে।

এমন প্রেক্ষাপটে ডলারের বিনিময় হার অভিন্ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত নেয়, যা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব নিয়েছে বাফেদা ও এবিবি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক