Published : 15 Aug 2025, 10:31 PM
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে আরও ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার কিনে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে এসব ডলার কেনার তথ্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভূমিকা রাখবে। এজন্য ডলার দর কমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামে তা কিনে নিয়ে বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। সামনে প্রয়োজন পড়লে আরও কেনা হবে।”
বৃহস্পতিবারের নিলাম সম্পর্কে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনে বাজার স্থিতিশীল রাখছে। সামগ্রিক অর্থনীতিতে এটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক চাচ্ছে রিজার্ভ বাড়ুক। তবে ভবিষ্যৎতে ডলার কারেন্সি নিয়ে আরও হুমকি আসবে, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে।”
একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক তিন কোটি ডলার কিনবে বলে জানিয়েছিল। তবে নিলামে ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার কিনেছে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক চাচ্ছে ডলার দর যেন না কমে। এজন্য বাজারে থাকা অতিরিক্ত ডলার কিনে নিয়েছে।”
গত সপ্তাহে দুই দফায় নিলামে ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে চলতি বছর জুলাই থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ছয় নিলামে কিনেছে ৭৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
এর আগে রোববার ১২১ টাকা ৪৭ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক।
৭ অগাস্ট কেনে ৫০ লাখ ডলার। সেদিন প্রতি ডলারের দাম পড়ে ১২১ টাকা ৩৫ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত।
এর আগে তিন ধাপে বিভিন্ন দামে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলার কেনা হয়।
ব্যাংকাররা বলছেন, রেমিটেন্স ও রপ্তানির প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি নিলামে ডলার কেনার বিষয়টিও রিজার্ভ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা বলেন, চাহিদার তুলনায় ডলার যোগান বেড়েছে, এজন্য ডলার দর কমেছে। কারণ আমদানির ঋণপত্র খোলা আগের চেয়ে কমেছে, অন্যদিকে এলসি খোলার যা বকেয়া ছিল, তা পরিশোধ হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকে প্রতি মাসেই ২ বিলিয়নের ওপর রেমিটেন্স আসছে। এর মধ্যে চলতি বছর মার্চে ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিটেন্স আসে।
এর মধ্যে গেল জুলাই মাসে ডলার দর হঠাৎ কমতে থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার দর অস্থিতিশীল হতে দেবে না। দাম অনেক বেড়ে যাওয়া যেমন ভালো নয়, আবার দাম কমে যাওয়াটাও নেতিবাচক।
ডলার দর কমে যাওয়ার কারণে হিসেবে বিশ্লেষক, ব্যাংকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, মাঝে কয়েক মাস রেমিটেন্সে উল্লম্ফনের পাশাপাশি রপ্তানি আয়ের প্রবাহও ভালো ছিল। এর সঙ্গে জুনে আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে অর্থ ছাড় হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বড় অঙ্কের ডলার এসেছে।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান বলেন, দুই ঈদে অনেক ভালো রেমিটেন্সের প্রবাহের বিপরীতে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি আগের চেয়ে কমেছে। যোগান ও চাহিদার এ সূত্রেই দাম কমেছে ডলারের। বিপরীতে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমেছে।
তিনি বলেন, “বিনিয়োগ যে হচ্ছে না তার প্রধান সূচক বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া। সরকার পতনের পর থেকেই বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমছে।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুন মাস শেষে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ঠেকেছে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের চেয়ে মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানিতে এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ২৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার প্রকাশিত ব্যালেন্স অব পেমেন্ট পর্যালোচনা করতে দেখা যায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১২ মাসের আমদানি আগের অর্থবছরের চেয়ে ১ দশমিক ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “অর্থবছরে দুই শতাংশের চেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হওয়া ‘ইন্ডিকেট’ করছে ডলার চাহিদা আগের চেয়ে কমেছে।”