Published : 16 Jul 2026, 05:26 PM
ভিসা না দিয়ে ৯১ শিক্ষার্থীর টাকা আত্মসাতের মামলার আসামিদের ওপর হামলা চালিয়েছে বাদীপক্ষের লোকজন।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে শুনানি পর হামলার শিকার হন আসামিরা।
এর আগে এ মামলায় প্রধান আসামি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ওরফে মো. মতিউর রহমানসহ চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেয় আদালত। অন্য আসামিরা হলেন- রাবেয়া খাতুন তানিয়া, সাইদুর রহমান ও মো. তানজির ইসলাম।
মামলার আরেক আসামি মোহাম্মদ মাশায়ের রহমান অন্তু দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি নিয়ে চার আসামির রিমান্ডের আদেশ দেন। আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে জবানবন্দি দেন অন্তু।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন রিমান্ডের এসব তথ্য দিয়েছেন।
এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মো. বিল্লাল ভূঁইয়া। অন্তুর জবানবন্দি রেকর্ড এবং চার আসামি সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তিনি।
তাদের আদালতে হহাজির করা হবে জেনে সেখানে আসেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
শুনানির আগে পুলিশ প্রহরায় তাদের এজলাসে তোলা হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের গালিগালাজ করেন। আদালতের বারান্দায় নিলে কয়েকজন হামলারও চেষ্টা করেন।
শুনানির পর পুলিশ প্রহরায় ফের হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে আসামিদের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামানো হয়৷ হাজতখানায় নেওয়ার আগ মুহুর্তে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা আসামিদের উপর হামলা চালায়।
এসময় হাজতখানার একটি পকেট গেট দিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা হাজতখানার প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকে ফটকে লাথি মেরে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পর বাদীপক্ষের আইনজীবী রুহুল আমিন মোল্লাসহ কয়েকজন এসে তাদের শান্ত করেন।
মামলায় বলা হয়েছে, ‘স্টুডেন্ট ভিসায়’ চার মাসের মধ্যে এসব শিক্ষার্থীকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে ‘জাস্ট থট অ্যাডুকেশন কনসালটেন্ট কোম্পানি’ বিভিন্ন সময়ে ৯১ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আট কোটি ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা নেয়। টাকা নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে তাদের বিদেশ না পাঠিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে।
গত ৮ জুলাই আল আমিন নামে এক শিক্ষার্থী বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এতে আসামির তালিকায় ১৩ জনের নাম আছে, অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৭ থেকে ৮ জনকে।