Published : 09 Apr 2026, 04:51 PM
জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ চালু করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ‘ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন’ ও আসাদগেটের ‘সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশনে’ বৃহস্পতিবার থেকে এই সেবা চালু করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উদ্যোগে তৈরি এই ব্যবস্থায় ‘কিউআর কোড’ স্ক্যান করে নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার জ্বালানি বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, প্রথম ধাপে শুধু মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই সেবা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। পরীক্ষামূলক এ ব্যবস্থা সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি চালু করা হবে।
নতুন এ ব্যবস্থায়, প্রতি ব্যবহারকারীর জন্য একটি আলাদা ‘কিউআর কোড’ তৈরি হবে। ফিলিং স্টেশনে কোড স্ক্যান করলেই নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি মিলবে। স্মার্টফোন না থাকলেও ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে কিউআর কোড ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিপিসি এমন এক সময়ে এই ডিজিটাল সেবা চালু করল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন সারা দেশের বিভিন্ন পাম্পগুলোতে দেখা যাচ্ছে জ্বালানি সংগ্রহে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন।
চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি না পেয়ে ও দীর্ঘ সময় লাইন ধরে থাকা নিয়ে কোন কোন পাম্পে ঘটেছে মারামারি, বিশৃঙ্খলা। নড়াইলে গত ২৮ মার্চ তেল না পেয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।
কোথাও কোথাও পাম্পে অকটেন-পেট্রোল না থাকার নোটিশ এবং কৃত্রিম সংকটের অভিযোগও সামনে এসেছে।
নতুন সেবা জ্বালানি বিভাগ বলছে, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জ্বালানি বিক্রির কারণে কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইন, যানজট, একই ব্যক্তি বা যানবাহনের একাধিকবার জ্বালানি নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ‘ফুয়েল পাস’ চালু হলে পুরো বিতরণ প্রক্রিয়া ‘ডিজিটাল রেকর্ডে’ আসবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তাৎক্ষণিক নজরদারি করা যাবে।
এই ব্যবস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে যানবাহনভিত্তিক তথ্য যাচাই সহজ হবে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ২৯ মার্চ ফিলিং স্টেশনগুলোতে নজরদারির জন্য ‘ট্যাগ কর্মকর্তা’ নিয়োগের কথা জানায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। পরদিন সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নেই; বরং প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কেনার প্রবণতাই লাইনের চাপ বাড়িয়েছে।”
এরপর ২ এপ্রিল জ্বালানি বিভাগ জানায়, অবৈধ মজুদ ঠেকানো ও সরবরাহে শৃঙ্খলা ফেরাতে সপ্তাহখানেকের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করা হবে।
জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘ফুয়েল পাস’ চালু হলে জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়বে, অপচয় ও অনিয়ম কমবে এবং সংকটের সময় সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।
এক মাসে ৭৩৪২টি অভিযান, তিন হাজারের বেশি মামলা
জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ডিজেল-অকটেন-পেট্রোল সরবরাহে অনিয়ম এবং মজুতের প্রবণতা দেখা যায়। এর প্রেক্ষিতে সরকার সারাদেশে অভিযান শুরু করে। গেল ৩ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এসব অভিযানে ৩ হাজার ১১টি মামলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের ১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৩৬ জনকে।
অভিযানে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৭ লিটার ডিজেল, ৩৬ হাজার ৬২১ লিটার অকটেন, ৮০ হাজার ৩৭৪ পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে।