Published : 20 Apr 2026, 05:22 PM
আগামী বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা কমানো, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)।
সিগারেটের করকাঠামোয় সংস্কার বাস্তবায়ন করে এ খাতে রাজস্ব বাড়ানোরও তাগিদ দিয়েছে সংগঠন দুটি।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রজ্ঞা ও আত্মা আয়োজিত আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তামাকের ব্যবহার ও অকাল মৃত্যু কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়বে।
'কেমন তামাক কর চাই' শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে তামাক কর ও মূল্য বিষয়ক বাজেট প্রস্তাব সমর্থন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর রিসার্চ ডিরেক্টর মাহফুজ কবীর।
তিনি বলেন, “বর্তমানে সিগারেট ব্যবহারকারীর অধিকাংশই নিম্ন এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের ভোক্তা। এই দুই স্তর একত্রিত করে সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা বিদ্যমান চারটি থেকে তিনটিতে নামিয়ে আনলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী ধূমপানে বিশেষভাবে নিরুৎসাহিত হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, “সিগারেট করকাঠামোয় প্রস্তাবিত সংষ্কার বাস্তবায়ন করা হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি বধির্ত রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ওপর বিদ্যমান চাপ মোকাবেলার সুযোগ তৈরি হবে।”
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আয়েশা সুহায়মা রব দাবি করেন, তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন করা হলে তামাক কর ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
কর ও মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে তামাক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব হবে, যা বর্তমান অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি হবে বলে মনে করেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।
তিনি বলেন, “এতে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব হবে। একইসঙ্গে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে।"
সংবাদ সম্মেলনে প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের মূল্য ২০০ টাকা বা তদূর্ধ্ব নির্ধারণের দাবি জানান। একইসঙ্গে বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এছাড়া ২০ শলাকা ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির অভিন্ন দাম ও করহার যথাক্রমে ৩০ টাকা এবং ৫০ শতাংশ আরোপের প্রস্তাব করা হয়।
জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রে যথাক্রমে প্রতি দশ গ্রাম ৬০ টাকা ও ৩০ টাকা খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে প্রস্তাব করা হয় ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের। একইসঙ্গে সব তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন, ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ এর হেড অব অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন, আত্মার কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন ও কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী।