১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্যাস কম, তেলের বিদ্যুৎ বাড়াচ্ছে ব্যয়; লোডশেডিংয়ে হাঁসফাঁস

গ্যাসের সংকট বিদ্যুৎ খাতকে দুই দিক থেকে চাপে ফেলেছে। লোডশেডিংয়ের ৮১ শতাংশ ঢাকার বাইরে।

গ্যাস কম, তেলের বিদ্যুৎ বাড়াচ্ছে ব্যয়; লোডশেডিংয়ে হাঁসফাঁস
ফাইল ছবি।

জেসমিন মলি জেসমিন মলি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Aug 2026, 01:29 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোডশেডিং সামাল দিতে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলচালিত কেন্দ্রগুলোর দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি)। এরপরও মিলছে না চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ; দীর্ঘ সময় থাকতে হচ্ছে অন্ধকারে, এই গরমে তৈরি হয়েছে হাঁসফাঁস অবস্থা।

এর মধ্যেই জ্বালানি সাশ্রয়ে গভীর রাতে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমানোয় কোনো কোনো সময় লোডশেডিং তিন হাজার মেগাওয়াটও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে এখন এর বাইরে খুব বেশি বিকল্প পিডিবির হাতে না থাকার কথা বলেছেন সংস্থাটির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে, সরকারের ভর্তুকির চাপও বাড়বে।

পিডিবি, পাওয়ার গ্রিড ও পেট্রোবাংলার দৈনিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৯ জুলাই থেকে ১ অগাস্ট পর্যন্ত চার দিনে উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে পাওয়া বিদ্যুতের ১৬ শতাংশ এসেছে ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলচালিত কেন্দ্র থেকে। এসময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানির যে ব্যয় হয়েছে সেটির প্রায় ৩৯ শতাংশ গেছে এ উৎসে।

তেল থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিসাবভুক্ত গড় ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ টাকা ৫৯ পয়সা। একই হিসাবে গ্যাসের বিদ্যুতের ব্যয় ছিল ৩ টাকা ৪৮ পয়সা। অর্থাৎ গ্যাসের তুলনায় তেলে উৎপাদিত বিদ্যুতে পাঁচ গুণের বেশি খরচ হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় পিডিবির লোকসান ও সরকারি ভর্তুকির চাপ আরও বাড়বে।

মেঘনাঘাট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

মেঘনাঘাট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

লোডশেডিংয়ের ৮১ শতাংশ ঢাকার বাইরে

ব্যয়বহুল তেলচালিত কেন্দ্র চালিয়েও লোডশেডিংয়ের চাপ সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। সেই চাপও সব অঞ্চলে সমানভাবে পড়ছে না।

শনিবার রাত ৯টায় দেশে মোট লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৭২ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে ছিল ৩৯৪ মেগাওয়াট। ঢাকার বাইরে আট অঞ্চলে ছিল ১ হাজার ৬৭৮ মেগাওয়াট, যা মোট লোডশেডিংয়ের প্রায় ৮১ শতাংশ।

ঢাকা অঞ্চলে চাহিদা থাকলেও সাড়ে ৬ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়নি। সিলেটে ঘাটতি ছিল চাহিদার প্রায় ২২ শতাংশ, ময়মনসিংহে প্রায় ২০ শতাংশ, রংপুরে ১৯ শতাংশ এবং কুমিল্লায় প্রায় ১৮ শতাংশ। 

গ্যাস নেই, রান্নাতেও ভরসা বিদ্যুৎ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের তাহসিনা বিনতে রহমানের সকাল এখন শুরু হয় আগের রাতের ঘুমহীনতা নিয়ে। দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস না থাকায় রান্নার জন্য তাকে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পরদিন সেই ক্লান্তি নিয়েই সন্তানদের স্কুলে নেওয়া ও সংসারের অন্য কাজ সামলাতে হয় তাকে।

কিছুটা দূরের শেখেরটেকের বাসিন্দা বিদিশা গাইন হালদারের ঘরেও কয়েক দিন ধরে একই অবস্থা। কখনো হোটেল থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে, কখনো আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে খেতে হচ্ছে। উপায় না পেয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন তারা। কিন্তু লোডশেডিং হলে সেই পথও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

গ্যাসের সংকট এভাবে বিদ্যুৎ খাতকে দুই দিক থেকে চাপে ফেলেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস কম পাওয়ায় উৎপাদন কমছে। আবার শিল্পকারখানার নিজস্ব বা ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়া এবং বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বাড়ায় জাতীয় গ্রিডে চাহিদা বাড়ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের অভাবে অনেক শিল্পকারখানার ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিদ্যুতের জন্য জাতীয় গ্রিডের ওপর তাদের নির্ভরতা বেড়েছে। একই সময়ে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়ছে। 

বিদ্যুতে গ্যাস কমেছে ৩০ কোটি ঘনফুট

পিডিবির সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দৈনিক ৯০০ থেকে এক হাজার মিলিয়ন (১০০ কোটি) ঘনফুটের কাছাকাছি গ্যাস পেত। এখন তা ৬০০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন (৭০ কোটি) ঘনফুটের মধ্যে নেমে এসেছে।

গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন কমে যাওয়ার পর ঘাটতি সামাল দিতে ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলচালিত কেন্দ্রগুলো যতটা সম্ভব চালানোর চেষ্টা করছে পিডিবি। তিনি বলেন, এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়বে এবং সরকারের ভর্তুকির চাপও বাড়বে।

পেট্রোবাংলার ১ থেকে ২ অগাস্টের প্রতিবেদনে গ্রিডভুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সমন্বিত গ্যাস চাহিদা দেখানো হয়েছে দৈনিক ২ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে কেন্দ্রগুলো পেয়েছে ৬৮২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট, অর্থাৎ চাহিদার এক-তৃতীয়াংশেরও কম। 

ঘোড়াশাল, ইউনিক মেঘনাঘাট, সিদ্ধিরগঞ্জ, মেঘনাঘাট আইপিপি, জেরা মেঘনাঘাট, আরপিসিএল, রাওজান ও ভেড়ামারাসহ কয়েকটি বড় কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ শূন্য দেখানো হয়েছে।

গ্যাসের অভাবে জ্বলছে না চুলা। চট্টগ্রামে মাটির চুলায় দুপুরের খাবার রান্না করেছেন এক গৃহিণী। 

গ্যাসের অভাবে জ্বলছে না চুলা। চট্টগ্রামে মাটির চুলায় দুপুরের খাবার রান্না করেছেন এক গৃহিণী।

তেলের বিদ্যুৎ কম, খরচ বেশি

২৯ জুলাই থেকে ১ অগাস্ট পর্যন্ত চার দিনে উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে প্রায় ১৩৩ কোটি ২৮ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল থেকে এসেছে প্রায় ২১ কোটি ৩৫ লাখ ইউনিট। অর্থাৎ প্রতি ১০০ ইউনিট বিদ্যুতের মধ্যে প্রায় ১৬ ইউনিট এসেছে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে।

পাওয়ার গ্রিড ও পিডিবির দৈনিক প্রতিবেদনে চার দিনের হিসাবভুক্ত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ আমদানি ব্যয় ছিল প্রায় ১ হাজার ২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে তেলচালিত বিদ্যুতের জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৩৯৭ কোটি টাকা। প্রতি ১০০ টাকার হিসাবভুক্ত ব্যয়ের প্রায় ৩৯ টাকা গেছে তেলচালিত বিদ্যুতে। অথচ এই উৎস থেকে এসেছে প্রতি ১০০ ইউনিট বিদ্যুতের ১৬ ইউনিট।

উৎসভিত্তিক উৎপাদন ও ব্যয়ের হিসাব ধরে ওই চার দিনে গ্যাস থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় ব্যয় ছিল ৩ টাকা ৪৮ পয়সা। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যয় ছিল ৬ টাকা ৭৩ পয়সা এবং আমদানি করা বিদ্যুতের ব্যয় ৬ টাকা ৩১ পয়সা। তেলের বিদ্যুতের গড় ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৫৯ পয়সা।

রাত বাড়লে কমছে তেলের উৎপাদন

গ্যাসের ঘাটতি পূরণে তেলচালিত কেন্দ্র চালানো হলেও গভীর রাত পর্যন্ত সেই উৎপাদন ধরে রাখা যাচ্ছে না।

পাওয়ার গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ঘণ্টাপ্রতি তথ্য বলছে, ২ অগাস্ট রাত ৯টায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল ১৫ হাজার ৫৬৩ মেগাওয়াট। পরদিন ভোর ৬টায় তা নেমে আসে ১২ হাজার ৫৫১ মেগাওয়াটে। নয় ঘণ্টায় উৎপাদন কমেছে ৩ হাজার ১২ মেগাওয়াট, যা রাত ৯টার উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

এরমধ্যে সবচেয়ে কমেছে তেলচালিত কেন্দ্রে উৎপাদন। রাত ৯টায় ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল থেকে ৩ হাজার ৪০২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল। ভোর ৬টায় তা কমে ১ হাজার ১৫২ মেগাওয়াটে নামে। শুধু তেলচালিত কেন্দ্রেই উৎপাদন কমেছে ২ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট। ওই নয় ঘণ্টায় মোট উৎপাদন যতটা কমেছে, তার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ঘটেছে এই উৎসে।

একই সময়ে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন ৫ হাজার ৬৩৭ মেগাওয়াট থেকে কমে ৪ হাজার ৯০২ মেগাওয়াট হয়। গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন ৩ হাজার ৭৩০ থেকে ৩ হাজার ৬৯৪ মেগাওয়াটে নামলেও আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণে বড় পরিবর্তন হয়নি। 

২ অগাস্ট রাত ১টায় দেশে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৫৩ মেগাওয়াট। রাত ২টায় তা বেড়ে ২ হাজার ৯৮০ মেগাওয়াট এবং রাত ৩টায় ৩ হাজার ১৪ মেগাওয়াটে ওঠে। ভোর ৬টায়ও লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৬২৯ মেগাওয়াট।

জ্বালানি কিনতেও বকেয়ার চাপ

পিডিবির সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, অনেক বেসরকারি তেলচালিত কেন্দ্র সীমিত জ্বালানি মজুত নিয়ে চলছে। কোনো কোনো কেন্দ্র রাত ১০টা বা ১২টা পর্যন্ত উৎপাদন ধরে রাখলেও পরে তা কমিয়ে দেয়।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ট্যাংকের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে পরদিন কেন্দ্র চালানো সম্ভব হবে না। বিল পরিশোধে দেরি হওয়ায় অনেক কেন্দ্র নতুন করে জ্বালানি কিনতেও সমস্যায় পড়ছে।

পাওয়ার গ্রিড ও পিডিবির কেন্দ্রভিত্তিক প্রতিবেদনেও একাধিক তেলচালিত কেন্দ্রের পাশে ‘তরল জ্বালানির ঘাটতি’ লেখা হয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্র ইঞ্জিনের সমস্যা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও বন্ধ বা সীমিত উৎপাদনে ছিল।

বগুড়ার ১১৩ মেগাওয়াটের কনফিডেন্স পাওয়ার ইউনিট-২ কেন্দ্রটির পাশে পিডিবির প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, পিডিবির অর্থ পরিশোধে বিলম্বের কারণে কেন্দ্রটি জ্বালানি সংকটে পড়েছে। তবে বকেয়ার পরিমাণ সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।

সক্ষমতা ৩০ হাজার মেগাওয়াট, উৎপাদন অর্ধেক

পিডিবির হিসাবে, ১ অগাস্ট দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা ছিল ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। কার্যকর সক্ষমতা দেখানো হয়েছিল ২৮ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট। কিন্তু ওই দিন সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছিল ১৫ হাজার ৩৫৫ মেগাওয়াট, যা স্থাপিত সক্ষমতার প্রায় ৫২ শতাংশ।

পিডিবির প্রতিবেদনে গ্যাস ও তরল জ্বালানির সীমাবদ্ধতায় ৫ হাজার ৬০২ মেগাওয়াট সম্ভাব্য উৎপাদনের ঘাটতি দেখানো হয়েছে। কেন্দ্র বন্ধ থাকা, যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ঘাটতি দেখানো হয়েছে আরও ২ হাজার ৩০৯ মেগাওয়াট। স্থাপিত সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি, অর্থ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা না গেলে কেন্দ্রগুলো চাহিদার সময় বিদ্যুৎ দিতে পারছে না।

চার দিনে গড় ঘাটতি ১ হাজার ৬১৬ মেগাওয়াট

চার দিনে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল প্রায় ১৪৮ কোটি ৭৯ লাখ ইউনিট। উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে পাওয়া গেছে প্রায় ১৩৩ কোটি ২৮ লাখ ইউনিট। ঘাটতি ছিল প্রায় ১৫ কোটি ৫১ লাখ ইউনিট। চার দিনের ৯৬ ঘণ্টা ধরে হিসাব করলে গড় ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৬১৬ মেগাওয়াট। সহজ হিসাবে, প্রতি ১০০ ইউনিট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় ৯০ ইউনিট।

শুধু ১ অগাস্টেই ঘাটতি ছিল প্রায় ৫ কোটি ২৫ লাখ ইউনিট। ওই দিন প্রতি ১০০ ইউনিট চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১৪ ইউনিটের ঘাটতি ছিল।

পুরনো আর্থিক চাপের ওপর নতুন বোঝা

গ্যাসের ঘাটতি পূরণে ব্যয়বহুল তেলচালিত কেন্দ্র ব্যবহারের চাপ এমন সময়ে বাড়ছে, যখন পিডিবি আগে থেকেই বড় লোকসান ও দেনার মধ্যে রয়েছে।

পিডিবির নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আইপিপি থেকে বিদ্যুৎ কিনতে ব্যয় হয়েছে ৭২ হাজার ৭১ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই ব্যয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।

ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্র, সরকারি উৎপাদন কোম্পানি ও ভারত থেকে আমদানি মিলিয়ে নিজস্ব কেন্দ্রের বাইরে বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ১৮১ কোটি টাকা। বিপরীতে পিডিবির নিজস্ব উৎপাদন ব্যয় ছিল ১২ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে পিডিবির গড় পাইকারি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয় ছিল ইউনিটপ্রতি ১২ টাকা ৩৪ পয়সা। গড় পাইকারি বিক্রয়মূল্য ছিল ৬ টাকা ৮০ পয়সা। প্রতি ইউনিটে ব্যবধান ছিল ৫ টাকা ৫৪ পয়সা।

এ ব্যবধান সামাল দিতে সরকার ৩৮ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা ভর্তুকির হিসাব করলেও বছর শেষে পিডিবির নিট লোকসান দাঁড়ায় প্রায় ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে লোকসান ছিল প্রায় ৮ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। 

২০২৫ সালের জুন শেষে পিডিবির উৎপাদন ও পাইকারি বিদ্যুৎ ব্যবসার হিসাবে ব্যবসায়িক ও অন্যান্য দেনা ছিল প্রায় ৫৯ হাজার ৫১ কোটি টাকা। 

টার্মিনালের প্রথম ইউনিট চালুর আশা

চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর। ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর টার্মিনালটির কার্যক্রম বন্ধ হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কমে যায়।

দুর্ঘটনার আগে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর তা প্রায় ২১৪ থেকে ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ চার থেকে পাঁচটি দেশ থেকে আকাশপথে আনা হয়েছে। মেরামতের অগ্রগতিও সন্তোষজনক।

চলতি সপ্তাহের মধ্যে টার্মিনালের প্রথম ইউনিট চালু হওয়ার আশা করছেন তারা। দ্বিতীয় ইউনিটটি ১০ অগাস্টের কাছাকাছি সময়ে সচল হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। মানুষের কষ্ট হচ্ছে, আমরা দুঃখিত।”

'কয়েক গুণ' বিদ্যুৎ বিল, হিসাব মিলছে না বহু গ্রাহকের

জুনে এত লোডশেডিং হল কেন?

ঢাকায় গ্যাস সরবরাহ 'বাড়াতে' কমল চট্টগ্রামে, তীব্র ভোগান্তি