একেক সময় একেক সিন্ডিকেট ভোক্তাদের টাকা লুণ্ঠন করছে: ক্যাব সভাপতি

ক্যাবের ভাষ্য, “চাল ও চিনি থেকে শুরু করে ডিম ও মাংসসহ আর কোনো ব্যবসাই এখন আর ‘সিন্ডিকেটের বাইরে নেই।“

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Feb 2024, 11:29 AM
Updated : 14 Feb 2024, 11:29 AM

দেশে বর্তমানে কোনো ব্যবসাই সিন্ডিকেটের বাইরে নেই অভিযোগ করে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেছেন, একেক সময় একেক সিন্ডি সক্রিয় হয়ে ভোক্তাদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি বলেন, “সব ধরনের ভোক্তা, বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ভোক্তারা কঠিন সময় পাড়ি দিচ্ছে। ভোক্তাদের নাভিশ্বাস দিন দিন বাড়ছে। একদিকে সরকার বলছে দেশে খাদ্যপণ্যের যথেষ্ট মজুদ আছে, দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

“অন্যদিকে পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ, এলসি সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কথা অসাধু ব্যবসায়ী বারবার বলে আসছেন। আর এর আড়ালে বাজার কারসাজি বা সিন্ডিকেট তৈরি করে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করছে তারা।”

রোজকে সামনে রেখে নিত্যপণ্য এবং ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবিতে এই মানববন্ধন করে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা এ সংগঠন।

মানববন্ধনে সভাপতি গোলাম রহমান ছাড়াও ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূইয়া ও কোষাধক্ষ ড. মঞ্জুর-ই খোদা তরফদার বক্তব্য রাখেন।

চাল-চিনি থেকে শুরু করে ডিম-মাংসসহ কোনো ব্যবসাই এখন আর সিন্ডিকেটের বাইরে নেই মন্তব্য করে গোলাম রহমান বলেন, “একেক সময় একেক সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ভোক্তাদের থেকে কোটি কোটি টাকা লুণ্ঠন করছে। এছাড়া হাতবদল হয়েও পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ক্যাব মনে করে দুর্ভোগ কমাতে বাজারের এই অবৈধ সিন্ডিকেট ভাঙ্গার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অতি দ্রুত সময়ে নিতে হবে।”

ওষুধের বাজারও লাগামহীন বর্ণনা করে তিনি বলেন, “আমি একটা সময় ডাক্তার দেখাতাম এক হাজার টাকা দিয়ে। আর এখন ডাক্তার দেখাতে হয় আড়াই হাজার টাকা দিয়ে। ওষুধ কোম্পানিগুলোকে নিজদেরকেই মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে করে অনিয়ন্ত্রিত মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে৷”

ব্যবসায়ীদের সমালোচনা করেন ক্যাব সভাপতি বলেন, “তারা (ব্যবসায়ীরা) স্বাধীনভাবে ব্যবসা করবে ঠিক আছে, তবে লাগামহীনভাবে করা যাবে না। সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ হাতে নিতে হবে।”

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক কবীর ভূইয়া বলেন, “ইতোপূর্বে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হলেও বাজারে থাকা ৯০ শতাংশের বেশি ওষুধের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আবারও বেশকিছু ওষুধের দাম এক লাফে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।”

মানববন্ধনে ক্যাব সদস্যদের হাতে ‘সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করো, ওষুধের দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করো’, ‘ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয় চাই’ লেখাসহ বিভিন্ন ফেস্টুন দেখা যায়।