Published : 08 Mar 2026, 08:09 PM
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতি সুদহার ধীরে ধীরে কমানোর আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে তার সঙ্গে ঢাকা চেম্বারের নেতারা সাক্ষাৎ করেন বলে চেম্বারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ মার্চ বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানুয়ারি-জুন সময়ের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল মাথায় রেখে আগের ধারা অনুসরণ করেই বছরের প্রথম ছয় মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে নীতিসুদ হার আগের মতই ১০ শতাংশে রাখা হয়েছে।
কিন্তু প্রায় আট মাস পরে ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। জানুয়ারি মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আগের মাস ডিসেম্বরেও যা ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ ছিল।
এরই মধ্যে আহসান মনসুরকে অপসারণ করে নতুন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছে বিএনপির নতুন সরকার।
ঢাকা চেম্বারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাক্ষাতের সময় চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ প্রকৃত (অনিচ্ছাকৃত) ঋণ খেলাপিদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এবং ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি এবং কাঠামোগত সংস্কারের সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে।”
অর্থমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে ডিসিসিআই বলেছে, “আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হলো বেসরকারি খাত।
“তিনি আশ্বাস প্রদান করেন যে, বর্তমান সরকার বাণিজ্য, ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং শিল্প খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে, কারণ দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
আমির খসরু বলেছেন, পুঁজিবাজারকে গতিশীল ও কার্যকর করতে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও বেশি বেসরকারি খাতমুখী করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
এছাড়াও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সহজ করা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোও সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
অথমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ঢাকা চেম্বারের জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।