Published : 15 Jun 2026, 12:12 AM
নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ‘বড় ধরনের নতুন বোঝা আরোপ করা হয়নি’ বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ মাসরুর রিয়াজ।
তিনি বলছেন, এটি একটি সহানুভূতিশীল বাজেট; মানুষ ও ব্যবসার জন্য সহায়ক হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় গুলশান ক্লাবে এসএমএসি অ্যাডভাইজারি সার্ভিসেস লিমিটেডর ‘দ্য ফাইন্যান্স বিল ২০২৬ আনভেইলড’ আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, “কর ব্যবস্থা ও নীতিগত কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যক্তি ও ব্যবসা খাতের ওপর চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা চলমান অর্থনৈতিক চাপে থাকা পরিবার ও উদ্যোক্তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক।”
তিনি বলেন, “সাধারণভাবে বাজেটের মূল কাজ তিনটি— কর ও করহার সমন্বয়, সরকারি ব্যয় বরাদ্দ এবং নীতিগত সংকেত প্রদান। সাধারণত আশা করি বাজেট সব সমস্যার সমাধান করবে, কিন্তু বাস্তবে বাজেট মূলত এই তিনটি কাজই করতে পারে।”
বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাজেট ‘সবুজ সংকেত’ বা ইতিবাচক দিক বহন করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাজেট থেকে আসা নীতিগত দিকনির্দেশনা বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
সভায় ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই-ফরেন চেম্বার) সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলেন, কোম্পানিগুলো বিশেষ করে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের কর ও সম্পূরক শুল্ক ইতোমধ্যে পরিশোধ করছে। আয় ও ব্যয় দুটোই যদি ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তাহলে বাজেট শেষ পর্যন্ত ব্যয়নির্ভর বাজেটে পরিণত হয়।
তিনি বলেন, নীতি প্রণয়নে ধারাবাহিকতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘন ঘন পরিবর্তন ব্যবসার পরিবেশকে অনিশ্চিত করে তোলে, বিশেষ করে করপোরেট করনীতির ক্ষেত্রে।
বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মত প্রতিযোগী বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে, ফলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত দক্ষতা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
“বিনিয়োগকারীদের জন্য একক ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ কার্যকরভাবে চালু না হওয়া, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আলাদা আলাদা দৌড়ঝাঁপ এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বেশি এফডিআই, বেশি কর্মসংস্থান এবং শেষ পর্যন্ত বেশি রাজস্ব আয়। কিন্তু এর জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
বিদ্যমান কাঠামোগত সমস্যা সমাধান না হলে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে এবং করভার মূলত নিয়মিত করদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরই থেকে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোম্পানির ফাউন্ডিং পার্টনার স্নেহাশীষ বড়ুয়া সভা পরিচালনা করেন। কাস্টমস নীতির প্রথম সচিব মো. তারেক হাসান এবং ভ্যাট নীতির দ্বিতীয় সচিব ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সী এবং যুগ্ম কর কমিশনার বাপন চন্দ্র দাস সভায় উপস্থিত ছিলেন।