Published : 17 Jun 2026, 10:45 PM
জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এর কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর এমপিরা।
ঋণের বোঝা, মূল্যস্ফীতি ও কৃষকের লোকসানসহ নানা বিষয় নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা’ বলেও কটাক্ষ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা।
জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “এটা লুটপাটের বাজেট। এই বাজেটকে বাইরে অনেকে বলছে চানাচুর মার্কা বাজেট; যা শুনতে ভালো লাগলেও খেলে পেট খারাপ হয়।”
রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও কর ফাঁকি, অপচয় ও অদক্ষতা কমানোর কার্যকর পরিকল্পনা বাজেটে স্পষ্ট নয় বলেও ভাষ্য তার। অর্থপাচার রোধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পায়নে আরও জোর দিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বাজেট দেখে সমস্যার সমাধান না পাওয়ায় ‘মানুষের মুখ মলিন হয়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আরেক সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান। তিনি ঋণের বোঝা, মূল্যস্ফীতি ও কৃষকের লোকসানের বিষয় তুলে ধরেন।
মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খানের বক্তব্যে কৃষিপণ্যের দাম, বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ঋণের সুদ পরিশোধে বিপুল বরাদ্দের বিষয়টিও উঠে আসে।
তিনি বলেন, “দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ ১৯ থেকে ২০ লাখ কোটি টাকা। বাজেটে সুদ পরিশোধের জন্য ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেটা শিক্ষা অথবা স্বাস্থ্যের মতো খাতে দিলে দেশটা অনেক দূর এগিয়ে যেত।”
সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে বাজেট মূল্যায়নের দাবি তুলে তিনি বলেন, “মানুষ জানতে চায় গ্যাস সিলিন্ডার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম কতটা কমল।”
এই বাজেটে কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবে কি না সে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অন্যদিকে সরকারি দলের সদস্যরা বাজেটের পক্ষে কথা বলেন। ফেনী-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম বাজেটকে ‘গণমুখী, সময়োপযোগী, বাস্তবধর্মী এবং জনকল্যাণমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, “শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করা ঠিক নয়। সব জায়গায় বিরোধিতা করলে অর্থনীতি সামনে এগিয়ে যাবে না।”
তার ভাষ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থানে প্রস্তাবিত উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “উন্নয়নের সুফল রাজধানী বা বড় শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রান্তিক অঞ্চল, সীমান্তবর্তী জনপদ, চরাঞ্চল, হাওর ও কৃষিনির্ভর এলাকাগুলোতে পৌঁছে দিতে হবে।”
রাজশাহীর আম রপ্তানি বাড়াতে সেখানে একটি আধুনিক ‘ম্যাঙ্গো এক্সপোর্ট জোন’ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
শিল্প, পর্যটন ও পাট খাত ‘নীতিগত সহায়তা পাচ্ছে না’ দাবি করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামসুন্নাহার বেগম।
ময়মনসিংহ-২ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মোহাম্মদুল্লাহ বাজেটকে ‘হৃষ্টপুষ্ট এবং হ্যান্ডসাম’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বাস্তবায়নই এর মূল চ্যালেঞ্জ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান বিদেশি ঋণ পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, ভাতা ও কার্ড দরিদ্র মানুষের কষ্ট সাময়িকভাবে কমাতে পারে, কিন্তু দারিদ্র্যের স্থায়ী সমাধান দেবে না।
অন্যদিকে কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া নিজের এলাকায় গিয়ে বাজেট নিয়ে মানুষের মধ্যে ‘চমৎকার’ প্রতিক্রিয়া দেখেছেন বলে দাবি করেন।
এ দিন বাজেট নিয়ে জামায়াতের সদস্যদের মধ্যে আরো বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন গাইবান্ধা-৫ আসনের মোহাম্মদ আব্দুল ওয়ারেস, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান।
নেত্রকোণা-৩ আসনের বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী মাদক নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি তোলেন। মাদককে ধ্বংস করতে পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন রাজশাহী-৬ আসনের বিএনপির সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ।