হিজড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে ভ্রান্তিবিলাসের শেষ কোথায়?

নবকুমার দত্ত
Published : 27 June 2022, 07:09 PM
Updated : 27 June 2022, 07:09 PM

আমাদের সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের মধ্যে লিঙ্গ বৈচিত্র্যপূর্ণ জনগোষ্ঠী অন্যতম। সিসজেন্ডার নারী-পুরুষ পরিচয়ের বাইরে রূপান্তরিত বা ট্রান্সজেন্ডার নারী-পুরুষ, হিজড়া, জৈবিক দিক থেকে বৈচিত্র্যপূর্ণ ইন্টারসেক্স বা আন্তঃলিঙ্গের ব্যক্তি সহ অসংখ্য জেন্ডার ও সেক্স পরিচয়ের মানুষ রয়েছেন। একজন ছেলে বা পুরুষ যখন লৈঙ্গিক অতৃপ্তি বা অস্বস্তির  কারণে একজন মেয়ে বা নারীর জেন্ডার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তখন তার পরিচয় হয় ট্রান্সজেন্ডার নারী।

একই ভাবে একজন মেয়ে বা নারী যখন ছেলে বা পুরুষের জেন্ডার ভূমিকায় স্বস্তিবোধ করেন এবং সেই মোতাবেক নিজেকে পরিবর্তন করেন, তখন তিনি হয়ে উঠেন ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ। ট্রান্সজেন্ডার নারীদের কেউ কেউ পরিবার ও সমাজের দেয়া বঞ্চনা, অত্যাচার, বুলিং ইত্যাদি থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজের পরিবর্তিত জেন্ডার ভূমিকায় নিজেকে সহজে পরিচিত করতে হিজড়া দলে যোগ দেন।

আমাদের অধিকাংশের ধারণা, হিজড়ারা হলেন ইন্টারসেক্স। অর্থাৎ জন্মগতভাবে হিজড়া ব্যক্তিদের জননাঙ্গ নারী বা পুরুষের থেকে আলাদা। যা আদতে ভ্রান্তধারণা। বিভিন্ন কারণে এই ভ্রান্তধারণা দুর করার কোনো চেষ্টা হিজড়া ব্যক্তিরা  করেন না, বরং সতর্কতার সাথে এড়িয়ে চলেন। কেননা আমাদের সুসভ্য সমাজ লৈঙ্গিক রূপান্তরকে সহজে গ্রহণ করার মতো উদার নয়।

আবার হিজড়াদের নিজেরদের মধ্যেও নিজেদেরকে প্রান্তিক করার উদাহরণ আছে।  প্রভাবশালী হিজড়াদের কেউ কেউ ঢাকার সড়কে কয়েকজন সাধারণ হিজড়া সদস্যকে বেধড়ক মেরে কাপড় খুলে জনগণের সামনে নকল হিজড়া হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। যদিও আসল বা নকল বলে কোনো ইস্যু নেই। সেই ঘটনাগুলো মূলত তাদের এলাকা ভাগাভাগি ও দলগত কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ। অর্থাৎ প্রান্তিকতার মধ্যেও আরো প্রান্তিক হয়ে যায় কেউ কেউ নিজেদের মধ্যে।

যে ট্রান্সজেন্ডার নারীরা কখনোই হিজড়া দলে আসেন না, তাদেরকে কিন্তু হিজড়া পরিচয়ে পরিচিত করানো যাবে না। এটা চরম অন্যায়। ঠিক যেমন একজন নারীকে কখনো পুরুষ হিসেবে পরিচয় করানো যায় না। ট্রান্সজেন্ডার পুরুষরা আরো বিচ্ছিন্ন; তাদেরকেও হিজড়া বলা যাবে না। তেমনিভাবে ইন্টারসেক্স ব্যক্তিকেও হিজড়া বলা যাবে না। কারণ তাদের কেউই হিজড়া সংস্কৃতির সদস্য নন।

হিজড়া একটা সংস্কৃতি, যাদের রয়েছে আলাদা ভাষা, জীবিকার ব্যবস্থা, গুরু পরম্পরা, বিশেষ শৃংখলা ব্যবস্থা, বিশ্বাস, প্রথা ইত্যাদি। তাই হিজড়া কখনোই একটা আলাদা জেন্ডার বা লিঙ্গ হতে পারে না।

বৈচিত্র্যপূর্ণ লিঙ্গ ও যৌন-পরিচয়ের প্রান্তিক মানুষদের অধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও বিভিন্ন পর্যায়ে অ্যাডভোকেসির ফলে ২০১৩ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্যাবিনেটে হিজড়া লিঙ্গ হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্তের দেন। এরপর ২০১৪ সালে হিজরা লিঙ্গ ঘোষণা দিয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়।

হিজরা যে একটা উপসংস্কৃতি, যা কখনোই একটা লিঙ্গ হতে পারে না এবং হিজরা সদস্যদের প্রায় সকলেই রূপান্তরিত নারী, আন্তঃলিঙ্গ বা ইন্টারসেক্স ব্যক্তি নন- এই কথাটা পলিসি মেকারদের কখনো ঠিকঠাক না বুঝিয়ে হিজরা লিঙ্গ ঘোষণা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যা ছিলো একটা ঐতিহাসিক জ্ঞাতসারে করা ভুল এবং পলিসি লেভেল ভুলের শুরু এখানেই।

যার ফল দেখা গেল ২০১৫ সালে। সমাজসেবা থেকে ১৪ জন হিজড়া সদস্যকে চাকরি দেয়ার প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে শারীরিক পরীক্ষার নামে মূলত কাপড় খুলে তাদের মধ্যে ১২ জনের দেহে পুংজননাঙ্গের উপস্থিতি দেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। এর মূল কারণ হিজড়াদের নিয়ে, তাদের শরীর নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা। কেউ উদ্যোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হয়তো বোঝাননি যে, এই মানুষগুলো ভুল শরীরে জন্ম নিয়েছেন। পুরুষ শরীরে নারীর মন নিয়ে আটকে গেছেন তারা। যারা দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে অ্যাডভোকেসি করেছিলেন তারা এই ঐতিহাসিক ইচ্ছাকৃত ভুলের দায় এড়াতে পারেন না।

২০১৮ সালের দিকে মূলধারার মিডিয়াতে হিজড়াদের মানবাধিকার নিয়ে বেশ কিছু কাজ হয়। যার ফলশ্রুতিতে সর্বত্র হিজড়াদের গ্রহণযোগ্যতার পথ আরো প্রশস্ত হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদেরকে কাজ দিতে এগিয়ে আসে। অল্প কয়েকজন হিজড়াবৃত্তি থেকে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন সম্মানজনক বৃত্তি ও পেশায় নিয়োজিত হন। এরই মাঝে ডজন খানেক নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান এবং সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক প্লাটফর্ম তৈরি হয়ে গেলো হিজড়াদের নিয়ে কাজ করার জন্য। এই উদ্যোগগুলো সাধুবাদ দিলেও, জেনে এবং না-জেনে বৈচিত্র্যপূর্ণ লিঙ্গ ও যৌন-পরিচয় নিয়ে ভুলের চর্চাকে মেনে নেয়া যায় না।

সরকার হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে খুবই আন্তরিক বলেই সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের অংশ হিসেবে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ২০১২-২০১৩ অর্থবছর থেকে নেয়া হয় 'হিজরা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি'। যা এখনো চলমান। এই প্রকল্প থেকে শিক্ষা উপবৃত্তি, অক্ষম ও অসচ্ছল হিজড়াদের বিশেষ ভাতা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও আর্থিক্ সহায়তা দেওয়া হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের হিসেবে দেশে হিজড়া সদস্য আছেন ১১ হাজার।  এই হিসেবে গত দশ বছরে হিজড়া সদস্য প্রতি সরকারের বাজেট ছিলো ৫৪ হাজার ৭৭৪ টাকা। গত দশ বছরে মোট সুবিধাভোগী ৪৫ হাজার৭৬৮ জন। অর্থাৎ গড়ে বছরে ৪ হাজার ৫৭৬ হিজড়া সদস্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষাবলয়ে এসেছে।

সরকারের আন্তরিকতা প্রকাশ পেয়েছে ২০২১-২০২২ সালের বাজেটে। বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ১০০ জন হিজড়া ব্যক্তি নিয়োগ দেয়, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাংশ পর্যন্ত করপোরেট ট্যাক্স মওকুফ করা হবে।

হিজড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে ভুল ও অল্পবিদ্যার কারণে তারা চাকরি প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর কোনো কোনো পর্যায়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সন্দেহের শিকার হন।

আমি নিজেও কয়েকজন নিয়োগকর্তার সাথে হিজড়া ও অন্যান্য লিঙ্গ বৈচিত্র্যপূর্ণ মানুষদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিয়ে তাদের ভুল ভাঙানোর চেষ্টা করেছি। কেউ বুঝেছেন, কেউ বুঝতে চান নি। সেই পুরাতন আসল আর নকল হিজড়া ধারণায় আটকে আছেন অনেকেই। যার জন্য বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক এই মানুষগুলো। এর দায় কিছুতেই এড়াতে পারেন না অ্যাডভোকেসি করা দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

দেশে ১১ হাজার হিজড়া সদস্য আছেন এই সংখ্যা যে ভুল তার প্রমাণ অধিদফতরের প্রকল্পের হিসেব থেকেই অনেকটা বোঝা যায়। হিজড়া ছাড়াও আছেন ট্রান্সজেন্ডার নারী ও পুরুষ। যারা কখনোই কোনো হিসেবে আসেননি। আরো আছেন ইন্টারসেক্স বা আন্তঃলিঙ্গ ব্যক্তিগণ।

জাতিসংঘের ফ্রি অ্যান্ড ইক্যুয়ালের মতে পৃথিবীতে প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ আন্তঃলিঙ্গ শিশু জন্মগ্রহণ করে। অর্থাৎ হাজারে ১ দশমিক ৭ জন। সে হিসেবে দেশের ১৬ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় তিন লাখ মানুষ আন্তঃলিঙ্গের হওয়ার কথা। তাদেরকে কি কখনো হিসেব করা হয়েছে? তাদের দুর্বিসহ জীবনের খোঁজ কি কেউ রাখেন?

হিজড়া, ট্রান্সজেন্ডার, ইন্টারসেক্স ইত্যাদি পরিচয় নিয়ে গোলমালের খেসারত দিতে হচ্ছে ইন্টারসেক্স শিশুদেরকে।

গত ২০২১ সালের ২১ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল্ বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে সেক্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগ। যেখান থেকে ইন্টারসেক্স শিশুদের শরীরে অস্ত্রোপচার করে নারী বা পুরুষ লিঙ্গ নির্ধারণ করা হবে। নিঃসন্দেহ এটা একটা অতিউৎসাহি ও মানবাধিকার বিরোধী উদ্যোগ।

লিঙ্গ ও যৌন বৈচিত্র্যপূর্ণ মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষায় জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থা ফ্রি অ্যান্ড ইক্যুয়ালের ভাষ্যে, আন্তঃলিঙ্গের ব্যক্তির শরীরে তার অনুমতি ছাড়া অপ্রয়োজনীয় সার্জারি করা সরাসরি মানবাধিকারের লঙ্ঘন

তাদের শারীরিক বৈচিত্র্যতা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। অর্থাৎ এখানে সার্জারি করে ঠিক করার কিছু নেই। সরকারি একটি হাসপাতালে এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশাল আয়োজন দেখে বোঝা যায় কতটা ভুলের ভিতর দিয়ে এগোচ্ছে এই বিষয়গুলো।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র ও সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত (সংশোধন, যাচাই এবং সরবরাহ প্রবিধানমালা ২০১৪ এর প্রজ্ঞাপন; ২০১৮ সালে প্রকাশিত) অনুসারে নাগরিকগণ প্রয়োজনমত জাতীয় পরিচয়পত্রে বিভিন্ন পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবেন। ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর জন্যও এই প্রজ্ঞাপনে সুখবর রয়েছে বলা যায়। কারণ তাদের নিজেদের পরিবর্তিত নাম ও লিঙ্গ এই প্রজ্ঞাপন অনুসারে তারা পরিবর্তন করতে পারেন।

কিন্তু লিঙ্গ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ও অন্যান্য প্রমাণ লাগবে। আসলে কী কী সার্টিফিকেট ও কাগজপত্র লাগবে তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই। এক্ষেত্রে যদি কাপড় খুলে মেডিক্যাল পরীক্ষা করার ব্যাপার থাকে তাহলে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের অনিচ্ছা স্বত্বেও জননাঙ্গ পরিবর্তনের জটিল সার্জারির ভিতর দিয়ে যেতে হবে। যা ব্যয়বহুল। দেশে এই সার্জারিগুলো হয় না। কেউ বাইরের দেশে গিয়ে করে থাকেন।

হিজড়ারা কেউ কেউ তাদের সংস্কৃতি অনুসারে ট্র্যাডিশনাল খোজাকরণ করে থাকেন। যাতে মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যধিক। এই সমস্ত সমস্যাগুলো হচ্ছে শুধুমাত্র বৈচিত্রপূর্ণ জনগোষ্ঠী সম্পর্কে ভুল তথ্য ও আধাতথ্য ছাড়ানোর কারণে। এর দায় এড়াতে পারেন না এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করা দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ।

এবারই প্রথম ডিজিটালাইজড জনশুমারি হলো। আরো একটা চমৎকার 'প্রথমবার' হচ্ছে এবার; নারী-পুরুষ জেন্ডারের পাশাপাশি হিজড়া জেন্ডার যুক্ত হয়েছে। আশা করা যায় হিজড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নিয়ে যে ধোঁয়াশাটা বিদ্যমান সেই ধোঁয়ার মেঘ কেটে যাবে এবার। কিন্তু সত্যিই কি সেই আশা করা যায়?

লিঙ্গ হিসেবে হিজড়া অপশনে ট্রান্সজেন্ডার নারী, ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ, আন্তঃলিঙ্গ বা ইন্টারসেক্স ব্যক্তি, জেন্ডার ক্যুয়ার, জেন্ডার নিরপেক্ষ সবাইকে রাখার কথা বলা হলো বিভিন্ন মহল থেকে। এটা হিজড়া ব্যতীত অন্যান্য বৈচিত্র্যপূর্ণ লিঙ্গের ব্যক্তিদের জন্য শুধু অপমানজনকই নয়, ভীষণ উদ্ভট একটা আইডিয়া। কোনো নারী কি কখনো নিজেকে পুরুষ হিসেবে পরিচয় দিবেন? নাকি একজন পুরুষ নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবেন?

একজন ইন্টারসেক্স ব্যক্তি বা ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ বা ট্রান্সজেন্ডার নারী বা জেন্ডার ক্যুয়ার ব্যক্তি কেনো হিজড়া হিসেবে পরিচয় দিতে যাবেন?

অনেকে বলতে পারেন, নারী-পুরুষের বাইরের মানুষগুলো অন্তত সংখ্যার হিসেবে আসুক, দৃশ্যমান হোক তাদের উপস্থিতি। খুবই ভালো কথা। আমিও চাই এই প্রান্তিক মানুষগুলো নিজেদের উপস্থিতি জানান দিক জনশুমারিতে। কিন্তু তার জন্য কি সব লেজেগোবরে করে যেতেই হবে? একের পর এক ভ্রান্তধারণা ও সিদ্ধান্তের চর্চা করে যেতে হবে? আর কোন সঠিক উপায় ছিলো না?

২০১৪ সালে হিজড়া একটি আলাদা লিঙ্গ হিসেবে সরকারি ঘোষণা আদায় করার মধ্য দিয়ে যে ভুলের শুরু, জনশুমারিতে দেখা গেলো তার পরম্পরা। মাঝখান থেকে কাপড় খুলে নিজেদের জেন্ডার প্রমাণ করতে হয় (যদিও জেন্ডার জননাঙ্গের বিষয় নয়) ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের। জননাঙ্গ ঘিরেই আবর্তীত হচ্ছে তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করা বা না করার বিষয়গুলো। পরিচয় সংকটে থাকা এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পরিচয়ের স্বতন্ত্রতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে তাদের মর্মপীড়াকে আরো উস্কে দেয়া  কতটা যুক্তিযুক্ত?

তথ্যসূত্র:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক