ছবি তোলার নামে চাঁদাবাজির শিকার হলাম কক্সবাজারে

ছবি তুলে বিপদে পড়ে যাওয়ার অবস্থা আমাদের পাঁচ বন্ধুর। শেষ পর্যন্ত ৬০০ টাকা দিয়ে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পাই আমরা।

রুহিন আহমেদনাগরিক সাংবাদিক
Published : 25 Sept 2022, 12:49 PM
Updated : 25 Sept 2022, 12:55 PM

কক্সবাজারে ঘুরতে গেলে ছবি তো তুলবই। আজকাল সেখানে ফটোগ্রাফারও পাওয়া যায়। কিন্তু ছবি তোলা নিয়েই চলছে চাঁদাবাজি। এতে করে পর্যটকরা হয়রানি হচ্ছেন, পকেটের টাকা খোয়াচ্ছেন বাধ্য হয়ে। তেমনি এক অভিজ্ঞতা হল আমাদের পাঁচ বন্ধুর কিছুদিন আগে।

আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে ঠিক করলাম কক্সবাজার যাব। সিলেট থেকে ট্রেনে চট্রগাম পৌঁছার পর বাসে করে কক্সবাজার যাই। সেখানে একটি হোটেলে তিন দিন থাকার রুম নেই। সেখানে একটু বিশ্রাম করে চলে যাই সমুদ্র সৈকতে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর আমরা সমুদ্র সৈকতে ঘুরোঘুরি করছি, সেই সময় একসঙ্গে চার-পাঁচ জন ফটোগ্রাফার এসে আমাদের ফটো তোলার জন্য পীড়াপীড়ি শুরু করে। এই নিয়ে এরপর ফটোগ্রাফারদের নিজেদের মধ্যেই ঝগড়া লেগে যায়।

সমুদ্র দেখতে এসে এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হবে তা আমাদের ধারণা ছিল না। আমরা বন্ধুরা মিলে বেশ চেষ্টা করে অবশেষে ফটোগ্রাফারদের ঝগড়া থামাই।

এরপর একজন ফটোগ্রাফার আমাদের সঙ্গে সঙ্গে আসেন। তিনি বারবার আমাদের বলেন, “ভাই, একটা ছবি তুলি?”

আমরা জানতে চাই, ছবি তুলতে কত টাকা লাগে?

ওই ফটোগ্রাফার বলেন, ”ভাইয়া, আগে ছবি তোলেন। টাকাটা পরে দেবেন।”

আমরা তার শর্তে রাজি হলাম না। ’ছবি তুলবো না’ বলে তাকে জানিয়েও দিলাম।

তখন ওই ফটোগ্রাফার বলেন, “একটা ছবি তুললে পাঁচ টাকা করে দিতে হবে। আপনার ইচ্ছামত ছবি বাছাই করে নিতে পারেন।”

এত টাকা দিয়ে আমরা সবাই ছবি তুলতে রাজি হলাম না। কিন্তু ফটোগ্রাফারও আমাদের পিছু ছাড়ছেন না।

আমরা এগিয়ে গেলে তিনি পেছন থেকে ডাক দিয়ে বলে ওঠেন, “ভাইয়া একটা ছবি তুলে তিন টাকা করে দিয়েন।”

আমরা তার কথায় রাজি হয়ে একশ ছবি তোলার কথা বললাম।

ফটোগ্রাফার আমাদের বললেন, “ভাইয়া আর দশ-পনেরোটা বোনাস দিয়ে দিব।”

একশ ছবি তোলার জন্য মোট তিনশ টাকা চুক্তিতে আমরা ফটোগ্রাফারের সঙ্গে আলাপ নিশ্চিত করে নিলাম।

ছবি তোলা শেষে ফটোগ্রাফার বললেন, ৩১৭টি ছবি তোলা হয়ে গেছে।

আমরা এতে অবাক হই। কারণ এতো ছবি আমরা তুলিনি। তাছাড়া আমরা বলেছিলাম, একশর উপরে ছবি তুলবো না।

আমরা ছবিগুলো দেখতে চাইলাম। দেখা গেল, ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় প্রত্যেক ছবি তিন-চার বার করে তোলা হয়েছে।

আমরা ছবি বাছাই করে নেওয়ার কথা বলি। কিন্তু ফটোগ্রাফার টালবাহানা শুরু করেন।

তিনি বলেন, ৩১৭টি ছবি বাছাই করতে না কি অনেক সময় প্রয়োজন। এত সময় তিনি এখন আমাদের দিতে পারবেন না।

অথচ তিনি আগেই বলেছিলেন, আমরা বাছাই করে ছবি নিতে পারব।

ওই ফটোগ্রাফার আমাদের কাছ থেকে ছবি তোলার জন্য ৯০০ টাকা দাবি করেন। অথচ একশটির বেশি ছবি তোলার কথাই ছিল না আমাদের।

ছবি তুলে বিপদে পড়ে যাওয়ার অবস্থা আমাদের পাঁচ বন্ধুর। শেষ পর্যন্ত ৬০০ টাকা দিয়ে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পাই আমরা।

এরপর আরও দুদিন ছিলাম আমরা কক্সবাজারেই। কিন্তু আগের বাজে অভিজ্ঞতার কারণে আর কোনো ফটোগ্রাফারকে ছবি তোলার জন্য বলিনি আমরা।

মানুষ কক্সবাজার ঘুরতে আসে। কিন্তু এখানে কিছু ফটোগ্রাফার ঘুরতে আসা মানুষের ছবি তুলে তাদের হয়রানি করে টাকা গছিয়ে নিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে এখানে আসা পর্যটকরা আত্মসম্মানের ভয়ে অসহায় বোধ করেন; বিড়ম্বনা এড়াতে তারা ফটোগ্রাফারদের অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্যও হন। 

আসলে এই পরিস্থিতি একভাবে ’চাঁদাবাজি’ করে অর্থ লুটে নেওয়ার মতই, যা কক্সবাজারে নিয়মিত হয়ে উঠছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক