নিরাপদ সড়ক আন্দোলন: হামলাকারীদের বিচারসহ ৯ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীবৃন্দ' ব্যানারে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 August 2022, 11:23 AM
Updated : 4 August 2022, 11:23 AM

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলায় জড়িতদের বিচার এবং যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য গণপরিবহনের মানোন্নয়নসহ নয় দফা দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে একদল শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে 'নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীবৃন্দ' ব্যানারে তারা সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।

সমাবেশ সরকারের সমালোচনা করে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের (নিসআ) যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম আপন বলেন, “২০১৮ সালে নয় দফা দাবি পেশ করা হয়েছিল। আন্দোলনের চার বছর পূর্তি হলেও সড়ক এখনও নিরাপদ হয়নি।

“সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মহল বিভিন্ন টালবাহানায় এখনো সেই নয় দফা বাস্তবায়ন করেনি। আমরা চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন এই নয় দফার পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়।“

ওই আন্দোলনে হামলার প্রসঙ্গ তুলে তার অভিযোগ, “স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছাত্র আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন'কে থামিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কুচক্রী মহলসহ হেলমেট ও লুঙ্গি বাহিনী ২, ৪, ৫ ও ৬ অগাস্ট আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপর বর্বর হামলা চালায়। ফলে আন্দোলনকারী অনেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়। “

সেই ঘটনার সুবিচার না পেয়ে শিক্ষার্থীরা ‘হতাশ’মন্তব্য করে শহীদুল ইসলাম আপন বলেন, “তাই হামলাকারী হেলমেট ও লুঙ্গি বাহিনীর বিচারের দাবিতে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি।

এই সমাবেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

১. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে যথাযথ তদন্তসাপেক্ষে শিক্ষার্থীসহ সকল ‘সড়কহত্যার’ বিচার করতে হবে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা মহলকে নিতে হবে এবং পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

২. ঢাকাসহ সারাদেশে সকল গণপরিবহনে (সড়ক, নৌ, রেল ও আসন্ন মেট্রোরেল) শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তহীন হাফ পাস নিশ্চিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

৩. যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য গণপরিবহনের মানোন্নয়ন এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য ফুটপাত, ফুটব্রিজ বা বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও স্বয়ংক্রিয়করণসহ পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

৪. পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ, কর্মঘণ্টা ও নির্দিষ্ট মাসিক বেতন নির্ধারণ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সকল যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকের যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

৫. গণপরিবহনে সংরক্ষিত আসন ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক কার্যকরি জরুরি হেল্পলাইন সেন্টার গড়ে তুলতে হবে।

৬. বৈধ ও অবৈধ যানবাহন চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধতার আওতায় আনতে হবে এবং বিআরটিএ এর সকল কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে৷

৭. সারাদেশের প্রতিটি রুটে পর্যাপ্ত পরিমাণ মানসম্মত রাষ্ট্রয়াত্ত গণপরিবহন নিশ্চিত করতে হবে এবং ব্যক্তিগত যানবাহন সীমিতকরণের উদ্যোগ নিতে হবে।

৮. ট্রাফিক আইনের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একে পাঠ্যসূচির অন্তভুর্ক্ত করতে হবে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে হবে।

৯. সকল গণপরিবহনে সরকারিভাবে ধার্য করা ভাড়া নিশ্চিত করে ও কাউন্টারভিত্তিক টিকেট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে যাত্রী হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে মিছিল নিয়ে ধানমণ্ডি থানার দিকে রওনা দেন। থানায় গিয়ে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তার দাবিতে ওসি বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দেন তারা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক