ঢাকা মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি দ্বিতীয় দিনে, ভোগান্তি

জরুরিসহ অন্যান্য সেবা চালিয়ে নিতে বিপাকে চিকিৎসকরা। এতে ভুগছেন চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 August 2022, 06:33 PM
Updated : 12 August 2022, 06:33 PM

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক সহকর্মীকে মারধরের বিচার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে; যা হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতি শুক্রবার রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় জরুরিসহ অন্যান্য চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসকরা। এতে ভুগছেন চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রায় ২০০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক কাজ করেন, যারা সোমবার রাতে তাদের সহকর্মীর ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবিতে কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার কথা শুক্রবারও জানিয়েছেন।

সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে জানিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মো. নাজমুল হক শুক্রবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ খোলা রয়েছে। অন্য বিভাগগুলোতেও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, “আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, ইন্টার্নি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছি। ওখানে ক্যামেরা না থাকায় দোষীদের চিহ্নিত করতে কষ্ট হচ্ছে। আমরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।

“আমাদের এখানে দুইশর মত ইন্টার্নি চিকিৎসক আছেন। তারা কর্মবিরতি করলে পেশেন্টরা সাফার করেই। কিন্তু আমরা আমাদের অন্য যে চিকিৎসক আছেন তাদের দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছি।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মারুফ-উল আহসান শামীম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, শহীদ মিনারে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টি শার্ট’ পরা যুবকদের হামলার ওই ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের পরিচালক ও উপ পরিচালককে জানান। তাদের কাছে প্রতিবাদলিপি দেন। ঘটনার তদন্ত ও বিচার চেয়ে পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরকে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ ঘটনার বিচার চাওয়া হয়। না হলে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত ছিল।

“আমরা সবার কাছে গিয়েছি। কিন্তু কোনো অগ্রগতি নেই, আমরা আশ্বস্ত হতে পারিনি। এখনও পর্যন্ত একজনকেও চিহ্নিত করতে পারল না। আমরা কোনো উপায় না পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছি।”

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা না থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে কাজ চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন অন্যরা।

“আমাদের ইমার্জেন্সি চালু রাখতেই হবে। চালু রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন,” যোগ করেন তিনি।

মারধরের শিকার ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সাজ্জাদ হোসেনের কানের পর্দা ও নাক ফেটে গেছে। রক্ত জমে চোখেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ডা. সাজ্জাদ বলেন, সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে শহীদ মিনারে যাই। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টি-শার্ট পরা দুজন শিক্ষার্থী এসে তার নাম জিজ্ঞেস করে। ঢাকা মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিচয় দেওয়ার পর কার্ড দেখতে চায়। সেটি রিডিং রুমে ফেলে আসায় তা দেখাতে পারেননি তিনি। তখনই তাকে চড় মারেন একজন বলে দাবি তার।

তার ভাষ্য, “আমি বলেছিলাম ‘কার্ড কি সবসময় সঙ্গে থাকে?’ ওই কথা বলার পর তারা আমাকে থাপ্পড় দেয়। সঙ্গে সঙ্গে আরও কয়েকজন এসে আমাকে মারধর করতে থাকে। একজন কানের নিচে প্রচণ্ড জোরে আঘাত করে। কানে কিছু শুনতে পারছিলাম না। মাথায়ও মারলে নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। এক পর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি।”

সাজ্জাদ হোসেন জানান, কিছুক্ষণ মারার পর তাকে একটি রিকশায় উঠিয়ে দেয় হামলাকারীরা। তিনি বকশিবাজার গেটে নেমে রুমমেটকে ফোন দিলে তারা এসে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করছে।

“আমাকে তারা (পুলিশ) জানিয়েছে ইতোমধ্যে ভিক্টিমকে সম্ভাব্য কিছু জিনিসপত্র দেখিয়েছেন। এই পর্যন্তই জানি। এর বাইরে কোনো অগ্রগতি হলে জানানো হবে।”

শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ওই ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ওই যুবকদের তিনি চেনেন না বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন।

ঘটনার তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, শিগগির ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক