নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলা: যা আছে এজাহারে
আসামির তালিকায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম আছে; অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।
রাজধানীর দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রোপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলা-ভাঙচুরের মামলায় ‘ইন্ধনদাতা’ ও ‘নির্দেশদাতা’ করা হয়েছে শাহরিয়ার মাহমুদ নামে এক ব্যক্তিকে।
হামলাকারীদের হাতে ‘শটগান, রিভলবার, চাপাতি, রামদা, ছোরা, রড ও লাঠিসোঁটা’ থাকার কথাও বলা হয়েছে এজাহারে।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১ নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য দিয়েছেন ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
ইসিবি চত্বর এলাকার নিউ গিনি প্রপার্টিজে শনিবার রাতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
হামলা হয় আবাসন প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের স্থাপনায়। এর মধ্যে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওর নাম আছে।
পুলিশ বলেছে, জমি নিয়ে একজন আবাসন নির্মাতা এবং এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরোধের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে।
এ মামলায় বাদী হয়েছেন নিউ গিনি প্রোপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, যেখানে আসামির তালিকায় সাবেক মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম আছে; অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে শাহরিয়া মাহমুদের ‘ইন্ধন ও নির্দেশে’ অন্য আসামিরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করেন। তাদের হাতে শটগান, রিভলবার, চাপাতি, রামদা, ছোরা, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল।
বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ সময় প্রকল্পের শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন।
বাদী বলেছেন, ওই সময় তিনি নিজেও নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন।
হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজকে (২৮) মারধরের অভিযোগ তুলে এজাহারে বলা হয়েছে, “২ নম্বর আসামি আবুল কাশেম রিভলবারের মাথা দিয়ে পারভেজের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পারভেজেকে আঘাত করা হয়।”
পারভেজকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলামকেও মারধর করা হয় বলে বাদীর অভিযোগ।
মামলার এজাহারে নাম থাকা বাকি আসামিরা হলেন— বাবুল হোসেন, মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান, মতিউর রহমান, মজিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, এমকে আজাদ, মামুন, আসলাম ও মুন্না।
এর মধ্যে ‘১০ নম্বর’ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ‘অজ্ঞাতনামা’ ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকল্পের মূল ফটকে ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। তখন লোহার গেইট, থাই গ্লাস ও কাঁচের গেইটে ভাঙচুর হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন বাদী।
এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হওয়ার কথা তুলে ধরে বাদী বলেছেন, “…হামলাকারীরা প্রকল্পের অফিসকক্ষে ঢুকে চারটি কম্পিউটার মনিটর, চারটি ডিডিআর, একটি এলজি ফ্রিজ, সাতটি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ, চারটি কাঠের টেবিল, আটটি চেয়ার ও একটি কাঠের আলমারি ভাঙচুর করেন।
বাদীর অভিযোগ, অফিসকক্ষের লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী কেনার ২৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। এছাড়া নির্মাণকাজের জন্য রাখা রড নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
প্রকল্পের ক্রিস্টাল প্লেস ভবনের সামনে রাখা ফ্ল্যাট মালিক মো. সুমনের চার লাখ টাকা দামের স্কুটার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন বাদী।
এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীরা মারওয়া টাওয়ারের নিচতলার স্টোররুমে ঢুকে নির্মাণকাজের মালামাল নিয়ে যান।
এ মামলায় গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে ১ নম্বর আসামি শাহরিয়ার ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক।
তিনি বলেন, “আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।”
শাহরিয়ারের বিস্তারিত পরিচয় জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, “তদন্তের স্বার্থে আমরা এখনই বিস্তারিত জানাতে চাইছি না।”
