নিউ সুপার মার্কেটে সহায়তার নজির গড়া সেই পুলিশরা পেলেন পুরস্কার
ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের সময় মানবিক কাজে এগিয়ে আসা পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।
ঢাকার নিউ সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের সময় মানবিক কাজে এগিয়ে আসা ৩৬ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক।
তিনি বলেন, নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের সময় যেভাবে পুলিশ সদস্যরা মুখে বাঁশি আর কাঁধে কাপড়ের গাঁট নিয়ে এগিয়ে এসেছেন, সেভাবেই জনগণের সেবা পুলিশ সদস্যরা ভবিষ্যতে করে যাবেন।
“১৯৭১ সালে থ্রি নট থ্রি বন্দুক নিয়ে ট্যাঙ্কের সামনে জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ২০১৩ সালে সারাদেশে অগ্নিসংযোগের সময় এবং ২০১৬ সালে জঙ্গিদের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার সময় জীবন রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এটাই বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের বৈশিষ্ট্য; এটাই টিম ডিএমপি।“
রোজার ঈদের এক সপ্তাহ আগে গত ১৫ এপ্রিল ঢাকা নিউ মার্কেট লাগোয়া ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে। তিন ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকা সেই আগুনে অনেক ব্যবসায়ীর দোকান ভ্স্মীভূত হয়।
ঈদ সামনে রেখে দোকানে প্রচুর মালামাল তুলেছিলেন তারা, কিন্তু ভয়াবহ সেই আগুনে তাদের জীবিকার অবলম্বন পুড়ে ছাই হয়।
আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনী যোগ দেয়। ঘটনাস্থলে আহাজারি করতে থাকা ব্যবসায়ীদের মালামাল উদ্ধারও করেন তারা।
ওই সময় মুখে বাঁশি নিয়ে উৎসুক জনতার ভিড় ঠেলে ব্যবসায়ীদের ভেজা কাপড়ের গাঁট কাঁধে ও মাথায় করে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে আনেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। ঘেমে আর আগুন নেভানোর পানিতে পুরো শরীর ভিজে একাকার সেই পুলিশ সদস্যদের ছবি ধরা পড়ে ক্যামেরায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেসব ছবি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। এমন মানবিক কাজে ব্যাপক প্রশংসিত হন পুলিশ সদস্যরা।
মঙ্গলবার পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে সেই কাজের স্বীকৃতি তুলে দেওয়া হয় রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের শহীদ এসআই শিরু মিয়া মিলনায়তনে। এছাড়া ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে কর্মরত সাতজন পুলিশ সদস্যকেও পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “দেশের সেবায় পুলিশ সবসময় প্রস্তুত। ডিএমপির দুই একজন সদস্য ছাড়া সবাই জনজনের সেবায় এগিয়ে আসে। ওই দুই-একজনের দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না।”
আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ট্রাফিক পুলিশ রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে ডিউটি দেয়। রোদে তাদের শরীর পুড়ে যায়। কিন্তু শতবছর আগে কোন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য টাকা নিয়েছেন, সেগুলো সংগ্রহ করে নিউজ করা হয়।
“ভালো কাজের স্বীকৃতির নিউজ কম করা হয়। তবে কিছু কিছু মিডিয়া ভালো নিউজ করছে।”
অনুষ্ঠানে দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিনসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
