হঠাৎ আগুন লাগলে করণীয় কী? কড়াইল বস্তিতে মহড়ায় দেখাল ফায়ার সার্ভিস
স্বেচ্ছাসেবক ও বস্তিবাসীদের অংশগ্রহণে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবহারিক কৌশল দেখানোর পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে দিন শুরু হয় আর দশটা দিনের মতই; এর মধ্যে হঠাৎ আগুল লাগল, খবর পাওয়া মাত্রই ছুটে এলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম শুরু করলেন। একই সঙ্গে আগুনে আহত ও আটকে পড়াদের উদ্ধার করে দেওয়া হচ্ছিল প্রাথমিক চিকিৎসা, আর গুরুতর আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হচ্ছিল হাসপাতালে।
তবে প্রায়ই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হওয়া কড়াইল বস্তিতে শুক্রবারের এই আগুন কোনো বাস্তব দুর্ঘটনা ছিল না; এটি ছিল ফায়ার সার্ভিসের মহড়ার অংশ।
‘অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ মহড়ার’ অংশ হিসেবে এদিন সকালে আকস্মিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের এই কৃত্রিম পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগুনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম এবং দুর্ঘটনায় আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা সংক্রান্ত সচেতনতা ও জনসাধারণের সক্ষমতা বাড়াতে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।
যেখানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও বস্তিবাসীদের অংশগ্রহণে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবহারিক কৌশল দেখানোর পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মহড়ায় অগ্নিকাণ্ডের এই কৃত্রিম পরিস্থিতিতে কার্যক্রমের সমন্বয় ও পরিচালনার জন্য ঘটনাস্থলে কমান্ড পোস্ট স্থাপন করা হয়। পরিস্থিতি মূল্যায়ন, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, অগ্নিনির্বাপণ কৌশল প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জরুরি সাড়াদান কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরা হয়।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, এ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের সরাসরি প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত করা। এ সময় বস্তিবাসীদের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার, আগুন লাগলে প্রাথমিক করণীয় এবং এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিরাপদে নিয়ন্ত্রণের ব্যবহারিক কৌশল শেখানো হয়।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে তাদের জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন, দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীদের সহযোগিতা করার বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, গ্যাস সিলিন্ডারের অসতর্ক ব্যবহার ও রান্নার চুলা থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়।
মহড়া শেষে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বস্তির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সচেতনতামূলক গণসংযোগ চালিয়েছেন। যে কোনো দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন নম্বর ১০২-এ দ্রুত যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে বস্তির বিভিন্ন স্থানে স্টিকার লাগানো ও বিতরণ করা হয়।
মহড়ায় নেতৃত্ব দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকার সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান, জোন কমান্ডার তানহারুল ইসলাম, ফয়সলুর রহমান ও আব্দুল মান্নান।
