Published : 01 Jan 2024, 10:41 PM
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশেই মাইক্রোবাস ‘রিকুইজিশন’ করছে পুলিশ। এ নিয়ে আতঙ্কে থাকার কথা জানিয়েছেন এসব বাহনের চালক ও মালিকরা।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনের আগে-পরে ভোটের সরঞ্জামসহ যাতায়াতের জন্য প্রচুর যানবাহন প্রয়োজন হয়। সরকারের কাছে এত গাড়ি নেই। তাই প্রতি নির্বাচনের আগেই প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সদস্যদের যাতায়াতের জন্য মাইক্রোবাস, পিকাপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রিকুইজিশন করা হয়।
মোহাম্মদপুরের ভাড়ার মাইক্রোবাস চালক মো. বাবুল জানান, গত ২ ডিসেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জে পুলিশ তার হাইয়েস মাইক্রোবাস আটকে কাগজপত্র নিয়ে গেছে, ধরিয়ে দিয়ে গেছে একটি রিকুইজিশন স্লিপ। আগামী ৪ থেকে ৮ জানুয়ারি পুলিশের নির্দেশমত তাকে ডিউটি করতে বলা হয়েছে।
এর আগের নির্বাচনে রিকুইজিশন ডিউটি করার অভিজ্ঞতা থেকে বাবুল বলছেন, তেল খরচ, ড্রাইভারের খোরাকি ও ভাড়া হিসেবে নগদ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের সেই টাকাটা দেওয়া হয় না। তবে তার গ্যাসের গাড়িতে গ্যাসের পাশাপাশি ট্যাংক ভরে তেল দিয়ে দিয়েছে গত দুইবার।
বাবুলের ভাষ্য, তাদের এলাকার ভাড়ায় চালিত অনেকে গাড়ির মালিক ‘টাকা দিয়ে ম্যানেজ’ করেছেন। তবে শর্ত হচ্ছে নির্বাচনের ওই চারদিন গাড়ি বের করা যাবে না।
ঢাকার একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তা মামুন ইশতিয়াক বলেন, গত ২ ডিসেম্বর পূর্বাচল থেকে তার ব্যক্তিগত মাইক্রোবাসটি আটকে কাগজপত্র চায় পুলিশ। তিনি কাগজ দেওয়ার পর তাকে দেওয়া হয় একটি রিকুইজিশন স্লিপ।
মামুন বলেন, “আমি তো নিজেই গাড়ি চালাই। এখন রিকুইজিশন ডিউটি করার জন্য ড্রাইভার পাব কোথায়। এক পুলিশ কর্মকর্তা বন্ধুকে ফোন করলাম তদ্বির করার জন্য। তিনি সার্জেন্টের সঙ্গে কথা বলার পর সার্জেন্ট আরও রাগ দেখালেন। বললের, ‘সমাধান চাইলে’ গাড়ি থেকে নেমে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হত। এখন তাদের কিছু করার নেই।”
সব মিলিয়ে পুলিশের গাড়ি আছে ১১ হাজার ৯২৩টি। এর মধ্যে মোটর সাইকেল ৬ হাজার ৪৪৫টি। বাকি ৫ হাজার ৪৭৮টি যানবাহন দিয়ে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে পুলিশ।
যানবাহন সংকটের কারণে পুলিশের অনেক কর্মকর্তাকে অনেক সময় গাড়ি ভাড়া করে বিভিন্ন স্থানে অভিযানে যেতে হয়। এছাড়া নিজ থানা এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সার্বক্ষণিক টহল দেওয়ার জন্য গাড়ি রিকুইজিশন করতে হয় সারা বছরই। রিকুইজিশন করা ফিটনেসবিহীন লেগুনায় পুলিশের টহলদৃশ্য খুবই পরিচিত।
এখন কেবল পুলিশ নয়, জেলা প্রশাসনসহ ভোটের দায়িত্বে থাকা সব সংস্থার জন্যই গাড়ি রিকুইজিশনের ভার পড়েছে পুলিশের ওপর।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মুনিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নির্বাচনের প্রয়োজনে বিভিন্ন বিভাগের চাহিদা অনুযায়ি বাস, ট্রাক, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, পিকআপ রিকুইজিশন করা হচ্ছে সারাদেশেই।
ঢাকা মহানগরে কত গাড়ি রিকুইজিশন করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এরই মধ্যে নির্বাচনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। রিকুইজিশন চলমান রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী গাড়ী রিকুজিশন করা হবে।”
‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের ১০৩-ক ধারায় যানবাহন রিকুইজিশন সম্পর্কে বলা হয়েছে, অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, পুলিশ কমিশনারের লিখিত আদেশবলে যে কোনো যানবাহন ৭ দিনের বেশি নয়– এমন সময়ের জন্য রিকুইজিশন করা যাবে, যদি তা জনস্বার্থে প্রয়োজন পড়ে। আর কোনো যানবাহন রিকুইজিশন করা হলে গাড়ির মালিককে নির্ধারিত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ওই অর্থ দেওয়া হয় না বলে যে অভিযোগ চালক-মালিকরা করছেন, তা মানতে রাজি নন মুনিবুর রহমান। তার ভাষ্য, সরকারি যা নিয়ম রয়েছে, সে আনুযায়ী টাকা দেওয়া হয়।
তবে নিয়ম অনুযায়ী সেই অংকটি কোন গাড়ির ক্ষেত্রে কত, কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেও তা জানা গেল না।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (পরিবহন) জ্যোতির্ময় সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নির্বচানের সময় বিভিন্ন জায়গায় বাড়তি ডিউটি করতে হয়। এই কাজ করতে গিয়ে যে পরিমাণ যানবাহন দরকার সেটা না থাকায় রিকুইজিশন করতে হচ্ছে। এটা প্রতি নির্বাচনের সময়ই হয়ে থাকে।”