২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

এএসপি আনিসুল হত্যা: অভিযোগ গঠনের আদেশ পেছাল

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের আদেশের নতুন তারিখ রেখেছেন ভারপ্রাপ্ত বিচারক।

এএসপি আনিসুল হত্যা: অভিযোগ গঠনের আদেশ পেছাল

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুল করিম,

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Aug 2023, 12:55 PM

Updated : 27 Aug 2023, 12:55 PM

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুল করিম হত্যা মামলায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ১৫ জনের বিচার শুরু হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে গেছে বিচারকের অনুপস্থিতির কারণে। 

রোববার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলামের আদালতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাবার অসুস্থাতার কারণে বিচারক ছুটিতে থাকায় আদেশ পিছিয়ে যায়।

এ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক লুৎফুল কবীর নয়ন (চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ) আগামী ১২ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের আদেশের তারিখ রাখেন বলে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।

গত ২৪ জুলাই এ মামলার ১৪ আসামির অব্যাহতির বিষয়ে শুনানি শেষ করেন আইনজীবীরা। সাখাওয়াত হোসেন নামে আরেক আসামি পলাতক থাকায় তার অব্যাহতির বিষয়ে শুনানি হয়নি।

সেদিন শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ২৭ অগাস্ট ঠিক করে দিয়েছিলেন।

আনিসুল করিম মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর দুপুরে তাকে ঢাকার মাইন্ড এইড হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভর্তির কিছুক্ষণ পর ওই হাসপাতালের কর্মচারীদের মারধরে আনিসুল করিমের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফাইজুদ্দীন আহম্মেদ বাদী হয়ে আদাবর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৮ মার্চ এ মামলায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. ফারুক মোল্লা।

পুরনো খবর:

মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য গিয়ে পিটুনিতে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

মাইন্ড এইড হাসপাতালের চিকিৎসক নুসরাত ফারজানাকে মামলায় এজাহারে আসামি না করলেও তিনি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন। পরে অভিযোগপত্রে তার নাম না আসায় বাদীপক্ষ আপত্তি তোলে।

এএসপি আনিসুলের পরিবারের ভাষ্য ছিল, ডা. নুসরাত ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, না হলে কেন তিনি আগেই জামিন নেবেন। এজন্য মামলাটি পুনরায় তদন্তের আবেদন করেন আনিসুলের বাবা ফাইজুদ্দীন আহম্মেদ।

পরে আদালত তা মঞ্জুর করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর নুসরাতকে বাদ দিয়ে ১৫ জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দাখিল করেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক এ কে এম নাসির উল্যাহ।

অভিযোগপত্রের আসামিরা হলেন- জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মামুন, মাইন্ড এইড হাসপাতালের পরিচালক আরিফ মাহামুদ, ফার্মাসিস্ট তানভীর হাসান, কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন, সাজ্জাদ আমিন ও ফাতেমা খাতুন, হাসপাতালের সমন্বয়ক রেদোয়ান সাব্বির, হাসপাতালের কর্মচারী মাসুদ খান, জোবায়ের হোসেন, তানিফ মোল্লা, সজীব চৌধুরী, অসীম কুমার পাল, লিটন আহম্মেদ, সাইফুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল-আমিন।

আসামিদের মধ্যে অসীম কুমার পাল কারাগারে আছেন। সাখাওয়াত হোসেন পলাতক। অপর ১৩ আসামি জামিনে আছেন।

মাইন্ড এইড হাসপাতালের পরিচালক মুহাম্মদ নিয়াজ মোর্শেদ মারা যাওয়ায় এবং ডা. নুসরাত ফারজানার বিরুদ্ধে অভিযোগের সতত্যা না পাওয়ায় তাদের মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।