২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সরকারি চাকরির আবেদন ‘সহজ ও স্বচ্ছ’ করতে পোর্টাল

এই পোর্টালে ১০ থেকে ১৭তম গ্রেড পর্যন্ত সব চাকরির আবেদন করা যাবে; চালু হবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে।

সরকারি চাকরির আবেদন ‘সহজ ও স্বচ্ছ’ করতে পোর্টাল

২০২০ সালের অগাস্টে ফায়ার সার্ভিসের চাকরির পরীক্ষার জন্য ঢাকার শান্তিনগরের হাবিবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটি কলেজের সামনে চাকরিপ্রত্যাশীদের ভিড়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jul 2023, 09:45 PM

Updated : 31 Jul 2023, 09:50 PM

সরকারি চাকরির খবর নিয়ে আসছে নতুন পোর্টাল ‘জাতীয় চাকরি বাতায়ন’; এতে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরের বিজ্ঞাপন পাবেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।

একই সঙ্গে আগ্রহীরা ওই ওয়েবসাইটে নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে আবেদনও করতে পারবেন। আবেদনের পর তা কোন পর্যায়ে রয়েছে তাও জানা যাবে।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশপাশি আগ্রহীদের সরকারি নিয়োগ বিষয়ক সমন্বিত সেবা দেওয়ার উদ্দেশে এই ‘জাতীয় চাকরি বাতায়ন’ খোলা হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। ১০ থেকে ১৭তম গ্রেড পর্যন্ত সব চাকরির আবেদন এই পোর্টালের মাধ্যমে করা যাবে।

ইতোমধ্যে প্রকল্পটির টেন্ডারিং প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে; সবকিছু ঠিকভাবে চললে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ হতে পারে বলে জানান প্রকল্পটির পরিচালক নাহিদা সুলতানা।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্মেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি (ইডিজিই) শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে; এর আওতায় ‘জাতীয় চাকরি বাতায়ন’ পোর্টালটি করা হচ্ছে বলে জানান নাহিদা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে ডিজিটাল স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে তারই ধারাবাহিকতায় আমরা এনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্মেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি প্রকল্পের আওতায় একটি অনুশাখা হিসেবে এই পোর্টালটি করতে চাই।

“এটা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের একটি সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে। এই সম্পদের রক্ষনাবেক্ষণ, আধুনিকায়ন ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে কম্পিউটার কাউন্সিল।”

বিষয়টি নিয়ে কম্পিউটার কাউন্সিলের একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকারের সব মন্ত্রণালয় বিভাগ ও অধিদপ্তরের জন্য লোকবলের প্রয়োজন হলে তারা কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে এই পোর্টালে চাকরির বিজ্ঞাপন দিবেন।

অপর দিকে সরকারি চাকরি করতে আগ্রহীরা সরকারি এই পোর্টালে গিয়ে সরকারের এসব বিজ্ঞাপন দেখতে পারবেন। সেখানে প্রোফাইল তৈরি করে আবেদন করতে পারবেন। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি তার প্রোফাইলে গিয়ে পরীক্ষার দিন ও কোথায় পরীক্ষা হবে- এসব তথ্য পেয়ে যাবেন।

এরপর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর ফলাফলও জানতে পারবেন জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, চাকরিপ্রত্যাশী ব্যক্তি তার আবেদনপত্রটি শর্ট লিস্ট হয়েছে কিনা, বাতিল হয়েছে কিনা বা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা সব তথ্যই তিনি পেয়ে যাবেন ওই পোর্টালে, পোর্টালের মধ্যমে আবেদনের সঙ্গে একটি ন্যুনতম ফি দিতে হবে।

জানতে চাইলে প্রকল্পের কম্পোন্যান্ট-২ এর কো-লিডার মো. শামসুর রহমান বলেন, “দেশের হাজার হাজার চাকরি প্রার্থী যুবসমাজের সরকারি চাকরির প্রার্থিতার সুশৃঙ্খল আবেদন নিশ্চিত করতেই বিসিসি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

“এই পোর্টালের মাধ্যমে ১০ থেকে ১৭তম গ্রেড পর্যন্ত অর্থাৎ নন-ক্যাডারের সকল চাকরির আবেদন এই পোর্টালের মাধ্যমে করা যাবে।”

তিনি বলেন, “প্রকল্পটির প্রধান কাজ হচ্ছে বিদেশ থেকে কেনাকাটা। এই কেনাকাটার জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। বর্তমানে ওই টেন্ডারিংয়ের মুল্যায়ন চলছে। মুল্যায়ন শেষ করতে পারলে আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় চাকরি বাতায়নের পোর্টাল স্থাপনের কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হতে পারে।”

বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।