১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউনূসকে হেনস্তা ‘স্পষ্ট সহিংসতা’, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে: তথ্য উপদেষ্টা

মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ক্ষমা না চেয়ে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রাখায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই বলেও মত জাহেদ উর রহমানের।

ইউনূসকে হেনস্তা ‘স্পষ্ট সহিংসতা’, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: বাসস

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Oct 2026, 06:28 PM

Updated : 13 Oct 2026, 06:28 PM

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তাসহ সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিদেশের মাটিতে হয়রানির ঘটনা ‘স্পষ্ট সহিংসতা’ বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

সম্প্রতি ইতালিতে এক অভিনেত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার যেমন ব্যবস্থা নিয়েছিল এবারও নিউ ইয়র্কে বিমানবন্দরে মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন।

মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ড. ইউনূস এখন আমেরিকাতে আছেন, সেখানে এয়ারপোর্টে তাকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে। তার অপরাধ হচ্ছে, তিনি শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেন নিয়েছেন। ড. ইউনূসের সরকারকে নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা যে কারো থাকতে পারে, আমরা দেশে বসেও অনেকে সেই সমালোচনা করেছি। তাই এই প্রতিটা পদক্ষেপ। আমরা যদি ভুল না করি আমাদের প্রাথমিক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আচরণ করার চেষ্টা হয়েছে আমেরিকাতে। সুতরাং যে দলটা এই ধরনের কাজ করে বেড়ায় এবং দেশের ভেতরে সন্ত্রাস এবং নানারকম সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা প্রকাশ্যে তাদের দলের প্রধান করে থাকেন, সেখানে আসলে রিকনসিলিয়েশনের আলাপের ব্যাপারে সরকারের যা বোঝার তা বোঝা হয়ে যায়।”

নিউ ইয়র্কসহ বিদেশের মাটিতে ঘটা ঘটনাগুলোকে স্পষ্ট সহিংসতা আখ্যা দিয়ে এর জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে দায়ি করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, “ওই দেশগুলো বলে হয়ত তারা আরও বেশি সহিংস হয়ে উঠতে পারছে না, কিন্তু এই প্রবণতা আছে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, একজন অভিনেত্রী (আজমেরী হক বাঁধন) যিনি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সলিডারিটি দেখিয়েছেন, সেই কারণে তিনিও হেনস্তার মুখোমুখি হয়েছেন। এগুলো কোনো প্রেসার গ্রুপ ট্রুপ কিছু না, এগুলো আওয়ামী সন্ত্রাস। আমরা এভাবেই ইন্টারপ্রেট করতে চাই এবং সেটা নিয়ে আইনি পদক্ষেপ আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে, ওই অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে কিন্তু সেটার প্রসেস শুরু হয়েছে আমরা ভবিষ্যতেও করব।”

গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ক্ষমা না চেয়ে আওয়ামী লীগ ক্রমাগত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিদেশে মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা ও দেশে অস্থিরতাকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রাখায় তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা সমঝোতার কোন সুযোগ নেই বলেও মত দেন তথ্য উপদেষ্টা।

এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সরকারের দিক থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। উনারা ডিসাইড করেছেন উনারা বিচার করবেন এবং আমরাও ডিসাইড করেছি কারণ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হতে হবে। পরবর্তীতে আরও যা যা আছে, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ পারফর্ম করতে পারবে কিনা, টিকে থাকবে কিনা সেটার জন্য আমাদের আইসিটিতে বিচার হবে, সেটা নিয়েই সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। সবকিছুই বিচারিক প্রক্রিয়াতে আছে, সেটাতেই চলছে।

“এই আলাপ আমি রিপিট করছি, ন্যূনতম কোন সম্ভাবনাও যদি থাকে, সেটা আওয়ামী লীগকে তার জায়গা থেকে বলার কথা ছিল। কিন্তু আজ আমরা যেই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, আড়াই মাস পার হয়ে গেছে এবং তাদের যে আচরণ, আমার মনে হয় এটা খুব স্পষ্ট এটার আদৌ কোনো সম্ভাবনা আর আছে কিনা? কোনো সম্ভাবনা আমি ব্যক্তিগতভাবে আসলে একেবারেই দেখি না। আবারও বলছি, ক্ষমা চাওয়া অনুতাপ দূরে থাকুক তারা হুমকি দিচ্ছে, তারা বাংলাদেশে সহিংসতা নানানভাবে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”

আওয়ামী লীগ নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে সরকারে কোনো ধরনের চাপে আছে কিনা সে প্রশ্নেরও জবাব দেন জাহেদ উর রহমান। এছাড়া নিউ ইয়র্কে মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যা ঘটেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তৎকালীন প্রেস সচিব একে ‘প্রেসার গ্রুপ’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। এ নিয়েও তথ্য উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।

জাহেদ উর রহমান বলেন, “তৎকালীন যিনি প্রেস সচিব আছেন, তার যে ব্যাখ্যা সেটা তিনি দেবেন। আমি সেটায় যাচ্ছি না। কিন্তু ডিসেম্বর নিয়ে আমাদের কোনো রকম কোনো টেনশন আছে কিনা, এই প্রশ্নটা অনেকবার আসলে ফেস করতে হয়েছে। আমরা কি চাই না উনি (শেখ হাসিনা) আসুক? আমাদের কোনো অস্পষ্টতা আছে যে, শেখ হাসিনাকে আমরা চাই না বাংলাদেশে?

“আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে আবারও বলছি, এটা কোনো প্রতিশোধের প্রশ্ন না, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে তার বিরুদ্ধে যে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আছে সেটার বিচার শেষ হয়েছে। তিনি প্রাথমিকভাবে সেটার জন্য দায়ী বিবেচিত হয়ে তার শাস্তি হয়েছে। আমরাই চাইছি উনি আসুক। সেটার জন্য আমরা কীভাবে ভবিষ্যতে কী কী করব, সেই প্রস্তুতি সরকারের নিশ্চয়ই আছে।

“আমরা তো ভারতকে বলছি, উনাকে আমাদের হাতে হস্তান্তর করুন। তো উনি যদি চলে আসেন সেখানে আমাদের কোনো রকম কোনো সমস্যার কিছু নেই। বরং আমরা যেটা বলছি, তার মত একজন অপরাধীর যদি বিচার এই দেশ এবং বিচার ব্যবস্থা করতে না পারে, বিচারের প্রক্রিয়া চলছে, সেটা আসলে দুঃখজনক হবে। কারণ তিনি যা করে চলে গেছেন আমরা সেটার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই।”

যখনই জুলাইয়ের সঙ্গে বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউ হেনস্তার শিকার হয় তখন বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যম এমনভাবে নিউজ করে, মনে হয় যেন এটা তার প্রাপ্যই ছিল। এগুলো কি তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা হিসেবে নজরদারি করছেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক।

জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “এই আলাপটা আগেও হয়েছে। কোনো আচরণ ক্রিমিনাল অফেন্স কিনা, মানে এই যে কিছু মিডিয়ার ফ্রেমিংয়ের কথা বলছেন এটাতে আমাদের নিশ্চয়ই চোখে আছে। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের একটা অংশ হচ্ছে জিনিসগুলো খেয়াল রাখা। মন্ত্রণালয় খেয়াল রেখে সে কী করবে সেটা আবার আরেকটা ইস্যু। সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ড. ইউনূস যা করেছেন, এই দেশে যেভাবে করেছেন সেটার সমালোচনার কোন ঢংটা কীভাবে তাকে ফ্রেম করাটা আমাদের আইনি চৌহদ্দির মধ্যে থাকবে।”

বিদেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আইনি তৎপরতার প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা এই কথা বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় থাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বলতে চাই। তারা যদি এ ধরণের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেন এটা আনচ্যালেঞ্জড যাবে না।”

পুলিশ বাহিনীর মনোবল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি আগেও বলেছি মনোবলের সংকট থাকা, আত্মবিশ্বাসের সংকট থাকা পুলিশ বাহিনী অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও ছিল, নির্বাচনের পরও ছিল। ১২ ফেব্রুয়ারির পর পরই আপনি দেখবেন যে, অনেক কিছু কমে গেছে। তার মানে তারা তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে। এরপরও যে একদম কোনো সংকট নেই, সেটা বলতে চাই না।

“আমি বিশ্বাস করি এই সরকার গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের ম্যান্ডেটের সরকার। তার যে কোনো আইনি আদেশ প্রতিপালনে পুলিশ বাহিনী তার আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ফিরে পাবে। এটার জন্য সময় আরেকটু হয়ত লাগবে। সেই কারণেই আমি বলছি, পুলিশ বাহিনী একেবারে সংকটহীন অবস্থায় আছে ব্যাপারটা সেরকম না।”