বাংলাদেশ চাইলে নির্বাচনে ‘সহযোগিতা’ করতে রাজি যুক্তরাজ্য

সংলাপে পররাষ্ট্র সচিব ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের স্থায়ী আন্ডার সেক্রেটারি ফিলিপ বার্টন দুদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Feb 2024, 11:48 AM
Updated : 6 Feb 2024, 11:48 AM

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সহিংসতামুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়ে প্রয়োজন হলে এক্ষেত্রে ‘সহযোগিতার’ প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। 

মঙ্গলবার ঢাকায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে পঞ্চম কৌশলগত সংলাপে এ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। 

সংলাপে পররাষ্ট্র সচিব ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের স্থায়ী আন্ডার সেক্রেটারি ফিলিপ বার্টন দুদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। 

ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ওই সংলাপ শেষে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যু, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন, মানবাধিকার এবং নির্বাচনসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। 

নির্বাচন নিয়ে আলোচনার বিষয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “তারা বলেছে যে, আমরা তাদের থেকে কোনো স্পেসিফিক ইনভলভমেন্ট বা তাদের থেকে যদি কোনো সহযোগিতা চাই, তাহলে তারা রেডি আছে এগুলোর ব্যাপারে। 

“আমরা বলেছি যে, এটা আমাদের নিজস্ব ব্যাপার। আমাদের একটা নির্বাচন, আমরা আগেও করেছি নির্বাচন এবং আমাদের স্বাধীন যে নির্বাচন কমিশন আছে, ওইটা আইনের মাধ্যমে করা হয়েছে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারা যথেষ্ঠ সক্ষম।” 

যুক্তরাজ্য নির্বাচনে জনগণ নাকি রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে- এমন প্রশ্নে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, “ওরা বলেছে, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক, যেখানে সহিংসতা কম হবে। তো, আমরা বলেছি যে, সে ব্যাপারে আমাদের কোনো দ্বিমত নাই। 

“কিন্তু অংশগ্রহণ… আমাদের কথা হচ্ছে যে, এটাতে জনগণের অংশগ্রহণ সেটা আমরা সরকার বা নির্বাচন কমিশন ইয়ে করতে পারে। কিন্তু প্রতিটা পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।” 

ব্রিটেন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “ওই রকম কোনো প্রস্তাব দেয় নাই।” 

যুক্তরাজ্য যে সহযোগিতার প্রস্তাব দিচ্ছে, নির্বাচনের সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য তারা কী ধরনের সহায়তা করতে পারে, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল পররাষ্ট্রের সচিবের কাছে। উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা যদি কোনো হেল্প চাই তাদের কাছে, তাহলে সেটা করবে।” 

সেটা মধ্যস্থতাধর্মী হবে কি-না, এমন প্রশ্নে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, “মধ্যস্থতা নাও হতে পারে। আমরা বলেছি, তোমরা যদি নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দিতে চাও, তাহলে স্বাগতম।” 

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “যেহেতু তারা আমাদের অনেক দিনের বন্ধু, উন্নয়ন সহযোগী, সুতরাং আমাদের নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের আগ্রহ আছে স্বাভাবিকভাবেই। এবং তারা দেখতে চায় যে, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং সহিংসতামুক্ত নির্বাচন হোক, যাতে করে সবাই সেখানে অংশগ্রহণ করে। 

“আমরা বলেছি যে… আমরাও অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এবং আমরা আরও বলেছি যে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের যে বিষয়টা আছে, সে ব্যাপারেও আমরা কাজ করছি।” 

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “অংশগ্রহণেরতো অনেক রকমের অর্থ হতে পারে। একটা অংশগ্রহণ হল জনগণ সবাই ভোট দেবে, এটাইতো অংশগ্রহণ তাই না? কিন্তু কোনো পার্টি অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। সেটা প্রত্যাশা থাকতে পারে, সবাই করবে। কিন্তু আসল হচ্ছে গিয়ে জনগণ যাতে ভোট দেওয়ার জন্য বা তাদের যে ভোটাধিকার সেটা তারা প্রয়োগ করতে পারে। সেটা সরকার বা নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করবে।” 

এর আগে যুক্তরাজ্য সফরের সময় কমনওয়েলথ মহাসচিবকে নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, “যেহেতু তারা কমনওয়েলথের নেতা, উনি বললেন যে কমনওয়েলথ মহাসচিবের সঙ্গে আলাপ করবেন। কমনওয়েলথ যেতে পারে কি-না। এই রকম ইতিবাচক আলোচনাই হয়েছে।”

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)