২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯, দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার

ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, এ ঘটনায় পুলিশের অবহেলা বা গাফিলতি আছে কি না সেটি তারা খতিয়ে দেখছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Sep 2026, 10:15 AM

Updated : 27 Sep 2026, 10:15 AM

ঢাকার মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ কার্যালয় ও এর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট এবং ভবন মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

ডিএমপি বলছে, সেখান থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার ডিএমপি মিডিয়া আ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ কমিশনার আখতার হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য দিয়েছেন।

এতে বলা হয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, যা সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ৫০ বছর ধরে গরিব, অসহায় মা ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে বলে প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য।

বৃহস্পতিবার গভীররাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ’র একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’র সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়ে চলে যান।

ভুক্তভোগী সংস্থাটি বলছে, হামলার সময় তাদের অফিসের সামগ্রীসহ টিকাদানের প্রচুর সামগ্রী লুটপাট হয়েছে।

এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেন রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাতুড়, লাঠি ও দেশি অস্ত্র নিয়ে প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন এক দল লোক। তারা নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখেন। হামলাকারীরা এক্সকেভেটর নিয়ে একটি সেমিপাকা ঘর, পরিবার পরিকল্পনা সেবাদানের আরেকটি সেমিপাকা ঘর এবং ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের সেমিপাকা ঘর ভাঙচুর করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি ও স্টিলের আলমারি নিয়ে যান। নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে সেখানে সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যান হামলাকারীরা।

এ ঘটনায় শুক্রবার গ্রেপ্তার চারজনকে পরদিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন— মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০)। শুক্রবার রাতে একাধিক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, এ ঘটনায় পুলিশের অবহেলা বা গাফিলতি আছে কি না সেটি তারা খতিয়ে দেখছেন।

ঘটনাস্থলের কাছেই থানার অবস্থান হওয়ার পরও এমন ঘটনা কেন ঠেকানো গেল না, জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “যেহেতু গভীর রাতের ঘটনা, তো আমরা দেখছি পুলিশ জানার পরেও এখানে সময়মত এসেছিল কি-না এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোন অবহেলা আছে কি-না।”

পুরানো খবর:

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙার ঘটনায় ‘পুলিশের গাফিলতি’ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: কমিশনার
মিরপুরে এনজিওর স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৪ জন কারাগারে
মধ্যরাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা সরকার চায় না: ডিএনসিসি প্রশাসক
মিরপুরে এনজিওর স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৪ জন গ্রেপ্তার
মিরপুরে মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল এনজিও কার্যালয়