মিরপুরে এনজিওর স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৪ জন কারাগারে
মধ্যরাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে সংস্থাটির কার্যালয়ের পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।
ঢাকার মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ এর কার্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই লুৎফুর রহমান জানিয়েছেন।
ওই চারজন হলেন- মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০)। শুক্রবার রাতে একাধিক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহআলী থানার এসআই মো. আতোয়ার রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন।
আবেদনে তিনি বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়েও তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এবং পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।”
মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, যা সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ৫০ বছর ধরে গরিব, অসহায় মা ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে বলে প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ওই সংস্থাটির কার্যালয়ের একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’ এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে চলে যান।
সংস্থাটির অভিযোগ, হামলার সময় তাদের অফিসের সামগ্রীসহ টিকাদানের প্রচুর সামগ্রী লুটপাট হয়েছে।
এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেন রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০/২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, হাতুড়, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন এক দল লোক। তারা নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও মো. আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখেন। তারা এক্সকেভেটর নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে একটি সেমিপাকা ঘর, পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমিপাকা ঘর এবং ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের সেমিপাকা ঘর ভাঙচুর করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি ও স্টিলের আলমারি নিয়ে যান। নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে সেখানে সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যান হামলাকারীরা।
