মধ্যরাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা সরকার চায় না: ডিএনসিসি প্রশাসক
হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’-এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে চলে যায়।
রাজধানীর মিরপুর-১ সেকশনে মধ্যরাতে একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-ডিএনসিসির প্রশাসক বলেছেন, সরকার এ ধরনের দখলদারিত্বের মতো ঘটনা চায় না।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হামলা চালানো হয় রাড্ডা এমসিএইচ এর কার্যালয়ে। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’-এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে চলে যায়।
শনিবার রাজধানীর কড়াইলে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, রাড্ডা দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গায় প্রসূতি মা ও শিশুদের টিকাদানসহ স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল। পরশু দিন গভীর রাতে সেখানে কিছু দুষ্কৃতকারী ভাঙচুর চালিয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন। খবর পেয়ে গতকাল তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
“আমি নিজে পুলিশের ডিসির সাথে কথা বলেছি। ডিসি সাহেব বলেছেন, মামলা রুজু করেছি, আমরা তদন্ত করছি এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে যারা এটার সাথে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছি,” বলেন প্রশাসক।
শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি নির্দেশনা দিয়েছি সে যেই হোক না কেন, এই ধরনের ঘটনা রাতের অন্ধকারে দখলদারিত্বের মত এটা এই সরকার চায় না। আমরা নিজেরাও চাই না। তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমি আশা করছি এই দুষ্কৃতকারী যারাই হোক তারা খুব দ্রুত গ্রেপ্তার হবে এবং তাদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জায়গাটি নিয়ে রাড্ডা ও কোনো সমিতির মধ্যে আইনি বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার কথাও বলেন ডিএনসিসির প্রশাসক।
স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নাম দিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
তাদের দাবি, হামলার সময় অফিসের সামগ্রীসহ টিকাদানের বিভিন্ন সামগ্রী লুট করা হয়েছে।
মামলায় নাম আসা বিএনপি নেতা হানিফ মিয়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, “আমি এ ঘটনায় জড়িতই না। আমি জানিই না, সেখানে কী হয়েছে। আমার নাম আবার কে দিল মামলায়?”
‘তাঁবু টানিয়ে রাড্ডায় টিকাদান শুরু’
হামলার পরও রাড্ডার টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখার কথা বলেছেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অলরেডি তারা আমাদের আজকের এই হাম-রুবেলার টিকা তারা তাঁবু টানিয়ে সেখানে অলরেডি শুরু করেছে এবং তারা তাদের কাজ কন্টিনিউ করবে।”
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলও রাড্ডায় টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “এটা এনজিও পরিচালিত একটা মাতৃসেবা কেন্দ্র ছিল। এটার মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশে সমস্যা থাকতে পারে, তার মানে এই না যে রাতের অন্ধকারে এভাবে কেউ ভেঙে ফেলে। এটা অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত। এটার মালিকানা নিয়ে যা গন্ডগোল আছে, সেটা কোর্টে নির্ধারিত হবে।”
তিনি বলেন, “এর পূর্ব পর্যন্ত যাতে আমাদের টিকাদান কর্মসূচিটা চালু থাকে, সেই ব্যবস্থা করব। পুলিশ সেটা দেখভাল করবে। ভবিষ্যতে যেন এটা নিয়ে আর কোনো ধরনের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি কেউ না করতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
