ছেলেমেয়েদের একসাথে পড়ানো উচিত: আসাদুজ্জামান নূর

“আমরা এখন শিক্ষার্থী তৈরি করছি না, পরীক্ষার্থী তৈরি করছি," বলেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Feb 2024, 11:34 AM
Updated : 10 Feb 2024, 11:34 AM

ছেলেমেয়েদের আলাদা স্কুলে পড়ানোর বিরোধিতা করে সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী, অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়া এক সময় যৌন বিকৃতি তৈরি করে। 

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেয়ার-নেট বাংলাদেশের অষ্টম সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ অ্যান্ড রাইটস (এসআরএইচআর) নলেজ ফেয়ারে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তিনি। 

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “ছোটবেলা থেকেই স্কুলে ছেলেমেয়েদের একসাথে পড়ানো উচিত। তাতে করে ছেলেমেয়েদের মাঝে যে সহজ সম্পর্ক গড়ে উঠবে, সেটা আমাদের জন্য সহায়ক হবে। যখন আলাদা স্কুলে পড়ে হঠাৎ করে কলেজে তারা একসাথে ক্লাসে যায়, তখন একজন পুরুষ নারীকে সম্মান না দেখিয়ে তাকে সেক্স অবজেক্ট হিসেবে দেখতে শুরু করে। 

“যার কারণে সমাজে নানা বিশৃঙ্খলার তৈরি হচ্ছে, নানা অঘটন ঘটছে। কারণ তাকে তো আমরা সেই মানসিকতায় বড় করিনি। আমরা শুধু তরুণ সমাজকে দোষ দিয়ে দায়িত্ব এড়াতে পারি না, আমাদের সন্তানদের কীভাবে বড় করছি, কীভাবে তাদের মানসিকতা গড়ে তুলছি, সেগুলো অত্যন্ত জরুরি।” 

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে সরকারদলীয় এ সংসদ সদস্য বলেন, “আমরা এখন শিক্ষার্থী তৈরি করছি না, পরীক্ষার্থী তৈরি করছি।" 

শিক্ষকরা পাঠ্যপুস্তকের যৌন সচেতনতার বিষয়গুলো ‘পড়াচ্ছেন না’ মন্তব্য করে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “শিক্ষকরা সবকিছু পড়াচ্ছেন না, এ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে পড়াচ্ছেন; এর চেয়ে বিপদের আর কী হতে পারে?" 

সংস্কৃতি অঙ্গনেও যৌন সচেতনতা গুরুত্ব পাচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, “অনেক বছর আগে, অন্তত ৬০ বছর আগে আমি একটা বই পড়েছিলাম ‘কার পাপে’। এটা নিয়ে পরে একটি সিনেমাও হয়েছিল যে, সেখানে দেখানো হয়েছিল যে, যৌনরোগে কীভাবে কয়েকটি পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল। শুধুমাত্র সচেতনতার অভাবে ধ্বংস হয়ে গেল। 

“৬০ বছর আগে যদি আমাদের মধ্যে এই সচেতনতা থাকে, তাহলে কেন আমরা নাটকে, সিনেমায় এ ম্যাসেজগুলো দিতে পারছি না? আমরা আসলে আমাদের বিনোদন মাধ্যমগুলোতে কী দেখচ্ছি? ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যা দেখাচ্ছি, সেগুলো আমার কাছে বিকৃত রুচির মনে হয়।” 

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সিএসই উপদেষ্টা সৈয়দ নুরুদ্দিন শাখাওয়াত, মেন্টাল হেলথ ফার্স্ট এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রধান মনিরা রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সৈয়দ শেখ ইমতিয়াজ। 

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)