যার একটু জলাধার আছে, মাছ চাষ করেন: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বান এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 July 2022, 07:54 AM
Updated : 24 July 2022, 07:54 AM

নিরাপদ পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মাছের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে মৎস্য উৎপাদন জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সবাইকে নিজ নিজ এলাকার জলাধারে মাছ চাষের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি।

রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২২’ এর উদ্বোধন এবং ‘জাতীয় মৎস্য পদক-২০২২’ বিতরণ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমি কিছুক্ষণ আগেই লেকে আবার মাছ ছেড়ে এলাম। আশা করি এভাবে সবাই, যার যার জলাধার আছে, যার যেখানে একটু জলাধার আছে, সেখানে আপনারা মাছের চাষ করেন।”

হাওর অঞ্চলে মৎস্য উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু হাওর না… হাওর, বাওর, খাল, বিল, বিভিন্ন জলাধার এত জায়গা আমাদের। আমার তো মনে হয় যার যেখানে এই ধরনের জলাধার আছে তারা যদি এই মৎস্য উৎপাদন করার দিকে একটু নজর দেন... শুধু মাছও না মাছের সাথে কাঁকড়া, শামুক আছে, ঝিনুক আছে সব কিছুই করা যায়।

“কাজেই সেগুলো করতে পারলে আমাদের নিজেদের কোনো অভাব থাকবে না। রপ্তানিক্ষেত্রে আমরা নতুন নতুন পণ্য দিতে পারব।”

দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথাও বলেন সরকার প্রধান।

জনগণের পুষ্টি নিশ্চিতে সরকার যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর ‘বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছে’, সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পুষ্টিটা আসবে মাছ, ডিম, দুধ ও মাংসের মাধ্যমে। শুধু আমরা নিজেদের চাহিদা মেটাব না, আমরা এগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশেও পাঠাতে পারব।”

শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়ায় এবং দক্ষিণ অঞ্চলে প্রায় প্রতিটি নদীর উপর সেতু করে দেওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা ‘উন্নত ও সহজ’ হয়েছে। সেসব অঞ্চলে এখন মাছ চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

“এ বিষয়ে আমি মনে করি আমাদের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় আরো বেশি উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। কারণ দক্ষিণ অঞ্চলেই এখন আরো একটু গুরুত্ব দিতে হবে।”

মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর জোর দিয়ে শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে বলেন, “আমি মনে করি, এই মৎস্য প্রক্রিয়াজাত করা বা এদিকে আরো বেশি সবাই এগিয়ে আসুন।”

মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এ অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় মৎস্য পদক-২০২২’ বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক পদক তুলে দেন। তার আগে দেশের মৎস্যখাতের উন্নয়ন ও অগ্রগতি বিষয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

দেশীয় মাছের নানা বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, প্রক্রিয়াজাত করা হলে শুধু দেশের বাজারে নয়, প্রবাসীরাও নিজের দেশের মাছ বেছে নেবেন।

‘মাছে ভাতে বাঙালি’র পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা মাছে ভাতে বাঙালি। এই মাছে ভাতে বাঙালি হিসেবেই যেন আমরা থাকতে পারি।”

মাছে কাঁটার কারণে অনেকে মাছ খেতে ‘চায়’ না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “কিন্তু প্রক্রিয়াজাত করলে কিন্তু এই কাঁটাও নরম করে ফেলা যায়, এবং খাওয়া যায়। সেটা কঠিন না, এমনকি ঘরে ঘরেও করতে পারেন।”

কক্সবাজার, কুয়াকাটাসহ সমুদ্র এলাকায় জাল দিয়ে শুধু চিংড়ির পোনা আহরণ বন্ধে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেসব জায়গায় হ্যাচারি তৈরি করে দিতে হবে।”

পাশাপিশ চিংড়ির পোনার স্বাস্থ্যসম্মত উৎপাদনের উপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আমাদের নতুন প্রজন্ম তারা আরও এগিয়ে আসবে। তাদের কর্মসংস্থান যেমন হবে, দেশে বেকারত্ব দূর হবে, আর সেই সাথে সাথে দেশও রপ্তানিযোগ্য পণ্য পাবে, আর দেশের আভ্যন্তরীণ চাহিদাও মিটবে। “

সরকারের সমালোচকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “যারা নাই নাই, গেল গেল, হায় হায়… করে বেড়াচ্ছে এই হায় হায় পার্টি হায় হায় করতেই থাকুক। মাঝে মাঝে তো তাদের একটু বলতে দিতেই হবে। আর আমরা আমাদের কাজ করে যাই। দেশ এগিয়ে যায় এবং দেশ এগিয়ে যাবে।”

জনগণের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের ‘ভালোবাসা’ আছে দাবি করে শেখ হাসিনা জানান, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নানা বাঁধা অতিক্রম করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

আর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠানস্থলে ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মাহবুবুল হক।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক