উদয়ন স্কুলে ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ডিনের ছেলের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অশালীন আচরণ ও বার্তা পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ছাত্রীদের হয়রানি, অশালীন বার্তা পাঠানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি তৈরির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের জেরে গত ৭ অক্টোবর ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন সহপাঠী মারধর করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ চলার সময় ‘হয়রানিমুক্ত স্কুল চাই’, ‘মেয়েদের নিরাপত্তা চাই’ এবং ‘ওর বাবা ডিন হলে আমাদের বাবা কি রিকশাওয়ালা?’—ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিনের ছেলে হওয়ায় সেই ছাত্রের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তার ভাষ্য, “সে মেয়েদের বাজে মেসেজ দেয়। সব সময় উত্ত্যক্ত করে। এখন আমাদের অধ্যক্ষ তাকে বাঁচাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষককে নিয়ে কমিটি করেছেন। এটা নিরপেক্ষ হবে না। তাই আমরা আন্দোলন করেছি।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ ছেলে সবাইকে মেসেজ দেয়। প্রেমের প্রস্তাব পাঠায়। মেয়েদের দিকে বাজেভাবে তাকায়। আমাকেও কয়েকবার মেসেজ দিয়েছে। আমি পাত্তা দিইনি। এজন্য সে সব সময় আমার দিকে বাজেভাবে তাকাত।”
ওই ছাত্রী আরও বলেন, “এখন তার বিচার না করে আমাদের আটজন শিক্ষার্থীকে ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছে তদন্ত কমিটি। এজন্য আমরা আজ নিরপেক্ষ কমিটির দাবিতে আন্দোলন করেছি।”
এর আগে সোমবারও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেই ছাত্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও হুমকি বন্ধ করা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে বিরত রাখা শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে ফিরিয়ে নেওয়া এবং ডিনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক আবুল হোসেন বেপারি, মাহবুব আলম ও আব্দুল করিম শাহিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক এনামুল হক সজীব ও এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকীকেও কমিটিতে রাখা হয়েছে।
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই শিক্ষার্থীর বাবা গত ৭ অক্টোবর বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সেখানে বলা হয়, তার ছেলেকে মারধর করেছে তার সহপাঠীরা।
পরদিন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত চলাকালে সেই ছাত্র এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়মিত ক্লাস থেকে বিরত রাখার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখানে দুই পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। এক পক্ষ ছাত্রীদের হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ করেছে। অন্য পক্ষ সেই ছেলেকে আজিমপুরে নিয়ে গিয়ে মারধর করেছে।
“এজন্য আমরা তদন্ত কমিটি করে দুই পক্ষকেই ক্লাস থেকে বিরত রেখেছি। একদল শিক্ষার্থী কয়েকটি দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছে। আমরা তাদের দাবি মেনে নিয়েছি।”
তিনি বলেন, “যে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে, আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি। আগে তদন্ত প্রতিবেদন আসুক। সেখানে কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে আমরা পুনরায় তদন্ত করব।”
