সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতপন্থি নীল প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজল।
Published : 18 Mar 2024, 04:38 PM
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোট গণনার সময় হট্টগোল ও হাতাহাতির মামলায় বিএনপি-জামায়াতপন্থি নীল প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজলের জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের আদালত এ আদেশ দেন।
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের জামিন নামঞ্জুরের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে অভিযুক্ত পক্ষ থেকে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে পুনরায় জামিন চাওয়া হয়েছিল।
কাজলের পক্ষে জামিন শুনানি করেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মো. আসাদুজ্জামান, কায়সার কামাল, মহসিন মিয়া, ওমর ফারুক ফারুকী।
শুনানিতে তারা বলেছেন, এজাহারে রুহুল কুদ্দুস কাজলের নাম ছাড়া আর কিছুই নেই। যে কোনো শর্তে কাজলের জামিন চাইছেন তারা। জামিন দিলে তিনি পলাতক হবেন না।
সে সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ঘটানো কি সমীচীন হয়েছে? আপনারা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার, নিজেদের সমিতির নির্বাচন, সেখানে এমন ঘটনা।”
তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, তারা বিচারকের সঙ্গে একমত। তবে কাউকে বাঁচাতে রুহুল কুদ্দুস কাজলকে ফাঁসানো হয়েছে।
এরপর আদালত কাজলের জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন।
আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা এখন জামিন চাইতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারি।”
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয় গত ৬ ও ৭ মার্চ। কিন্তু ঝামেলা বাধে ভোট গণনা নিয়ে।
সম্পাদক পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথী ৭ মার্চ রাতেই ভোট গণনা শেষ করে ফলাফলের দাবি জানান। কিন্তু বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ মনোনীত প্যানেল থেকে সম্পাদক পদপ্রার্থী শাহ মঞ্জুরুল হকসহ অন্যরা শুক্রবার বিকালে ভোট গণনার দাবি জানান।
এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে দুই পক্ষ হট্টগোল এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। সে সময় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবু সাইদ একটি পক্ষের হাতে মারধরের শিকার হন। এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পর থেকেই থেমে যায় ভোট গণনা ও ফলাফল।
ওিই ঘটনায় ৮ মার্চ শাহবাগ থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন নির্বাচন সাব কমিটির কো-অপ্ট সদস্য সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুর রহমান সিদ্দিকী সাইফ। ২০ জনের নাম উল্লেখ করে সেখানে যুথীকে এক নম্বর এবং কাজলকে দুই নম্বর আসামি করা হয়।
পরদিন ৯ মার্চ বিকালে রাজধানীর তোপখানা রোডের চেম্বার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কাজলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
১০ মার্চ আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী তাকে ৪ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
পুরনো খবর
পুরানো খবর:
রিমান্ড শেষে কারাগারে রুহুল কুদ্দুস কাজল