১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আদালত অবমাননা’: সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীকে ট্রাইব্যুনালে তলব

“একজন আইনজীবী যখন আদালত সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য করেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তখন সাধারণ মানুষের কাছে মনে হতে পারে যে এটি বৈধ।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 16 Sep 2026, 04:50 PM

Updated : 16 Sep 2026, 04:50 PM

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে ফেইসবুকে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্যের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীকে তলব করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় সশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের এক আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বুধবার এ আদেশ দেয় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২।

যে দুই আইনজীবীকে তলব করা হয়েছে, তারা হলেন—হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।

আদেশের পর ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, “গতকাল ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ওই দুজন আইনজীবী ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তারা ট্রাইব্যুনালকে অবমাননা করে বক্তব্য দিয়েছেন।”

মঙ্গলবার দুপুরে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এর পরপরই হাসানুজ্জামান তুষার রায়ের সংবাদ প্রতিবেদন ফেইসবুকে শেয়ার করে লেখেন, “অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ, মিথ্যা-বানোয়াট, ভিত্তিহীন রায়ের তীব্র নিন্দা জানাই, প্রতিবাদ জানাই এবং ঘৃণ্যভাবে এই রায় প্রত্যাখান করি। রাজপথেই হবে সবকিছুর ফয়সালা। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।”

ওই পোস্টে সেদিন বিকালে আইনজীবী মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী মন্তব্য করেন, “ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই ফরমায়েশি রায় প্রত্যাখান করছি। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।”

অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল এ দুজনের বিরুদ্ধে আবেদন করার কারণ ব্যাখ্যা করে কৌঁসুলি তামীম বলেন, “তারা আইনজীবী, তারা আইন জানেন। আদালতের বিরুদ্ধে কী বলা যায় বা যায় না তা উনারা জানেন।

“একজন আইনজীবী যখন আদালত সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য করেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তখন সাধারণ মানুষের কাছে মনে হতে পারে যে এটি বৈধ। এই বিভ্রান্তি এড়াতেই আদালতের কাছে পিটিশনটি আনা হয়েছে।”

১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১(৪) ধারার কথা মনে করিয়ে দিয়ে গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, সংশ্লিষ্ট কাউকে হুমকি বা আদালত অবমাননাকর কোনো কাজ করলে এক বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।