অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা যাবে না, আইন হচ্ছে

তথ্য ব্যবহারে ব্যক্তির সম্মতির প্রয়োজন হবে, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হবে বাংলাদেশ উপাত্ত সুরক্ষা বোর্ড।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 Nov 2023, 11:10 AM
Updated : 27 Nov 2023, 11:10 AM

অনুমতি ছাড়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহারের পথ বন্ধ করতে একটি আইন করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৩’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “তথ্য এখন সবথেকে বড় রিসোর্স। ডিজিটাল যুগে তথ্য ব্যবহার কৌশলগত রিসোর্স হিসেবে পরিগণিত হয়। তথ্য এখন সবথেকে বেশি প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ।

“তথ্য ব্যবহারের ব্যবস্থাপনা কিংবা একজন ব্যক্তির তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার সম্মতির প্রয়োজন হয়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ উপাত্ত সুরক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হবে। সেই বোর্ড এসব বিষয় দেখাশোনা করবে।”

উপাত্ত যারা সংগ্রহ করবেন, তাদের জন্য অনুসরণীয় কিছু নীতিমালা, বিধিবিধান থাকবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “বোর্ড এসব তৈরি করবে। সেসব মেনেই সকলকে তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণ করতে হবে। যারা তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়া করবে তাদেরও বোর্ডে নিবন্ধিত হতে হবে।”

তথ্যের বিভিন্ন ধরেনের শ্রেণি বিভাগ থাকবে জানিয়ে মাহবুব হোসেন বলেন, কোনো তথ্য ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া শেয়ার করা যাবে না। কিছু তথ্য ব্যক্তি অনুমতি দিলেও নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ ছাড়া তা ব্যবহার করা যাবে না।

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তথ্য-উপাত্ত প্রক্রিয়া করতে পারবে। বায়োমেট্রিক উপাত্তের মধ্যে ডিএনএ এর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বোর্ডের প্রধানের পদ হবে চেয়ারম্যান, এতে চারজন সদস্য থাকবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণায় এই আইন বাধা হয়ে দাঁড়াবে কিনা, এ প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “সেখানে তো কোনো ব্যক্তির তথ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা প্রকাশ করা হয় না।”

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রস্তাবিত আইনে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে বিদেশি কোম্পানি আইন না মানলে বাংলাদেশে তাদের ব্যবসার যে টার্নওভার আছে তার পাঁচ শতাংশ জরিমানা হিসেবে আদায় করা যাবে। 

জয়িতা ফাউন্ডেশন আইন 

নারীদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব তৈরি করতে জয়িতা ফাউন্ডেশন আইন ২০২৩ এর খড়সার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জয়িতা ফাউন্ডেশন কোম্পানি আইনের আওতায় নিবন্ধিত। সেটাকে এখন পুরোপুরি নিজস্ব আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

খসড়া অনুযায়ী, জয়িতা ফাউন্ডেশনে পরিচালনা পর্যদের সভাপতি থাকবেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী। ফাউন্ডেশকজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই পর্যদের সদস্য সচিবের দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে এবং সরকার কর্তৃক নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে এটার বোর্ড গঠিত হবে।

“এটা মূলত চেষ্টা করবে নারীদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব তৈরি করতে। সেই সঙ্গে যারা নারী উদ্যোক্তা হচ্ছেন, তাদের সকল রকমের সাহায্য-সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে এই ফাউন্ডেশন কাজ করবে।”

নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গ 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় সরকারের এখন কেবল রুটিন কাজ করার কথা। সেক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার বৈঠক কীভাবে হচ্ছে, সেই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে।

জবাবে তিনি বলেন, “সংবিধানের বর্তমান যে বিধান আছে, সেখানে কিন্তু এখন যে সরকার আছে, স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রাখার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। সে অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা মিলিয়ে যে ছয়জন ইস্তফা দিয়েছেন, তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে গেজেট কবে হবে, এ প্রশ্নে মাহবুব বলেন, “এ রকম কোনো নির্দেশনা এখনও পাইনি। নতুন কোনো নির্দেশনা আমার কাছে আসেনি।”

মন্ত্রিসভার আর কোনো বৈঠক হবে কিনা, এ প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈঠক হবে না– এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই।

সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ২০২২-২৩ অর্থ বছরের কার্যাবলি সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

মাহবুব বলেন, যেহেতু সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছে, তাই সকল মন্ত্রী ও সচিবরা বৈঠকে ছিলেন। দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।