Published : 07 Jun 2023, 06:49 PM
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আশরাফ আলী খান খসরুর এক বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে তার অপসারণ দাবি করেছে সংক্ষুব্ধ প্রতিবন্ধী নাগরিক সমাজ।
সংগঠনটির আহ্বায়ক সাবরিনা সুলতানা বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের কাছে আমাদের ভাতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের দাবির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দেশের প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন।
“তিনি বলেছেন, ‘তারা বঞ্চিত হচ্ছেন না। তাদের যা পাওয়ার কথা তারা তা পাচ্ছেন। এখন যারা লিখতেই পারেন না তারা চাকরি পাবেন কীভাবে?' তিনি কি এটা বুঝে বলেছেন? এজন্য তাকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে?”
প্রতিবন্ধী ভাতা পাঁচ হাজার টাকা করাসহ ১১ দফা দাবিতে গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশে শাহবাগ থেকে যাত্রা করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে সংক্ষুব্ধ প্রতিবন্ধী নাগরিক সমাজ।
সেই ঘটনায় ‘পুলিশি নির্যাতনের’ অভিযোগে এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে তিন দিন পর সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর খসরুর অপসারণ দাবি করল সংগঠনটি।
সাবরিনা বলেন, "প্রতিমন্ত্রীর প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রতি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন, কাণ্ডজ্ঞানহীন এবং বৈষম্যমূলক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনতিবিলম্বে তাকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।"
প্রতিবন্ধী মানুষের স্বাধীন জীবনযাত্রা কেন্দ্র-কৃষ্টির সভাপতি সাবরিনা সুলতানা বলেন, “বিশ্বের কোথায় কোথায়, এমনকি আমাদের পাশের দেশগুলোতেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কী কী সরকারি সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে, তাদের অধিকার বাস্তবায়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে তিনি কি অবগত? নাকি তিনি জানেনই না? তাহলে এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে তাকে কি পিকনিক করতে পাঠানো হয়েছে?
"আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার এই বক্তব্য চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং বৈষম্যমূলক। তার এই বক্তব্য প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রতি রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক কাঠামোর প্রতিফলন।"
গত রোববারের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধাদানের প্রসঙ্গে সাবরিনা বলেন, "এই কর্মসূচিতে সারাদেশের ক্ষুব্ধ প্রতিবন্ধী নাগরিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং সমর্থন জানান। আপনারা দেখেছেন, আমাদের সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় অভিমুখী মিছিলে পুলিশ বাধা দেয় এবং প্রতিবন্ধী মানুষদের উপর লাঠিচার্জ করে।

“পুলিশের নির্যাতনে আন্দোলনকারী তিনজন প্রতিবন্ধী মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন, পুলিশ লাথি মেরে একাধিক হুইলচেয়ার ব্যাবহারকারী মানুষকে ফেলে দেন এবং একজনের হুইলচেয়ার ভেঙে দেন। আপনারা দেখেছেন, পুলিশ হুইল চেয়ার ব্যবহারকারীর হুইল চেয়ার ভেঙে ফেলেছে। হুইল চেয়ার ব্যবহারকারীকে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে। ওই কর্মসূচিতে অসংখ্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ছিলেন।”
পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে সাবরিনা বলেন, “প্রতিবন্ধী মানুষের সঙ্গে পুলিশ এই ধরনের নির্মম আচরণ করেছে, তারা একবারও ভাবেনি- এই ধরনের আক্রমণাত্মক, মারমুখী অবস্থান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপর তাৎক্ষণিক বা সুদূরপ্রসারী কী মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।"
সংক্ষুব্ধ প্রতিবন্ধী নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক সাবরিনা বলেন, "আমাদের ন্যায্য দাবির এই আন্দোলনে পুলিশের নির্মম নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানাই এবং নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করি।"
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আপনারা লক্ষ্য করেছেন, তীব্র গরম উপেক্ষা করে হাজার হাজার প্রতিবন্ধী মানুষ সারাদিন প্রায় ১৩ ঘণ্টা শাহবাগে অবস্থান করলেও সরকার সংশ্লিষ্ট কেউ প্রতিবন্ধী মানুষদের কাছে আসেনি, দাবি পূরণের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।
“সেদিন আমরা ১৪ জুন পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, দাবি না মানলে আমরা কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হব। এখন পর্যন্ত আমরা আমাদের দাবির প্রতি সরকারের ন্যূনতম কর্ণপাত করতে দেখছি না।"
আন্দোলনকারীদের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরুর বক্তব্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পারেনি।
তার একান্ত সচিব (যুগ্মসচিব) বিজয় কৃষ্ণ দেবনাথ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, গত ১ জুন প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী মারা গেছেন।
“তখন থেকেই তিনি তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণায় আছেন। তিনি স্ত্রী বিয়োগের শোকের মধ্যে আছেন। এর মধ্যে তিনি কোনো সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেননি।”