২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পদের তথ্য গোপন: বেবিচকের হিরণ ও তার স্ত্রীর কারাদণ্ড

কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুজনকে অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Sep 2026, 05:51 PM

Updated : 29 Sep 2026, 05:51 PM

সম্পদের তথ্য গোপন করে সাজা পেলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা শাখার সাবেক নিরাপত্তা অপারেটর হিরণ মিয়া এবং তার স্ত্রী রুনা লায়লা।

আদালত হিরণ মিয়াকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তার স্ত্রী রুনা লায়লাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালত মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন বলে তথ্য দেন স্ট্রেনোগ্রাফার সোহানুর রহমান।

দুদক প্রসিকিউটর জহিরুল ইসলাম বলেন, “পাশাপাশি হিরণ মিয়াকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রুনা লায়লাকে দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। তবে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অর্থ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ওই মামলায় তারা খালাস পেয়েছেন।”

আসামিদের মধ্যে হিরণ আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে রুনা লায়লা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে তথ্য স্ট্রেনোগ্রাফার সোহানুর রহমানের।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৭ সালে দুদক হিরণ দম্পতিকে সম্পদের হিসাব দিতে নোটিস দেয়। নোটিস পেয়ে ১১ জুন তারা সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেন। তদন্তে দেখা যায়, দুদকে জমা দেওয়া সম্পদের হিসাব বিবরণীতে হিরণ ২৩ লাখ ২ হাজার ৪৪৪ টাকার সম্পদ গোপন এবং ২ কোটি ৯১ লাখ ৯৫ হাজার ৪০৩ টাকার সম্পদের মধ্যে ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৪৩৩ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন করেন।

অন্যদিকে রুনা লায়লা সম্পদের হিসাব বিবরণীতে ২১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৪৪ টাকার সম্পদ গোপন করেন। এছাড়া ২ কোটি ৭৭ লাখ ৬৮ লাখ ৬৫৭ টাকার সম্পদের মধ্যে এক কোটি ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৬০ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন করেন।

এসব অভিযোগে দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক নাসির উদ্দিন ২০২৯ সালের ২৭ নভেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে কমিশনের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

২০২৪ সালের ১৯ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

হিরণ মিয়া নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। রুনা লায়লা পলাতক থাকায় শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি।