২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

অবৈধ সম্পদ: সাবেক সহকারী কর কমিশনার শ্যামলের ৫ বছরের কারাদণ্ড

রায় শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অবৈধ সম্পদ: সাবেক সহকারী কর কমিশনার শ্যামলের ৫ বছরের কারাদণ্ড

আদালতে শ্যামল কৃষ্ণ দাস।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Oct 2026, 04:43 PM

Updated : 28 Oct 2026, 04:43 PM

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক সহকারী কর কমিশনার শ্যামল কৃষ্ণ দাসকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক আব্দুস সালাম বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।

দুদকের প্রসিকিউটর খন্দকার শামীম হোসেন বলেন, কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে।

আসামির অবৈধভাবে উপার্জিত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫২২ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও শামীম হোসেন জানিয়েছেন।

শ্যামল কৃষ্ণ দাস জামিনে ছিলেন। বুধবার আদালতে হাজির হন। রায় শেষে তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু জানিয়েছেন।

১ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৩ মে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা হয়।

সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদের করা মামলায় বলা হয়, শ্যামল কৃষ্ণ দাস এনবিআরের কর অঞ্চল ময়মনসিংহে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে অবসরে। দুদকে ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি নিজ নামে ও নির্ভরশীলদের নামে যাবতীয় স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা ও আয়ের উৎসসহ বিস্তারিত বিবরণী জমা দেন তিনি। জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ২ কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৭ টাকার সম্পদের ঘোষণা দেন। এর সঙ্গে ৩১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকার পারিবারিক ব্যয় যোগ করে মোট ৩ কোটি ৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়। যার মধ্যে গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ১ কোটি ১৯ লাখ ১ হাজার ২২৫ টাকা। বাকি ১ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯২ টাকার আয়ের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। সে কারণে ওই সম্পদকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বলে দুদক।

মামলার তদন্ত শেষে গত বছরের ১৭ এপ্রিল শ্যামল কৃষ্ণ দাসের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

মামলার বিচার চলাকালে আদালত চারজন সাক্ষ্য দেন। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় দিল।