ধুঁকতে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আশার আলো

এসব প্রতিষ্ঠানে এক বছরে আমানত বেড়েছে দুই হাজার ৬৯৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা পাঁচ দশমিক ৮২ শতাংশ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Jan 2024, 08:49 PM
Updated : 22 Jan 2024, 08:49 PM

ঋণ কেলেঙ্কারি ও অর্থপাচারের ঘটনায় সমালোচনার মধ্যে থাকা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে (এনবিএফআই) আমানত ও ঋণ বিতরণ- দুটোই বাড়তে শুরু করেছে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশ করা হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, গত জুন শেষে এনবিএফআইতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। মোট চার লাখ ৬৮ হাজারের বেশি হিসাবে এ পরিমাণ আমানত রয়েছে।

২০২২ সালের জুনে এসব প্রতিষ্ঠানে আমানত ছিল ৪২ হাজার ৮৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আমানত বেড়েছে দুই হাজার ৬৯৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা পাঁচ দশমিক ৮২ শতাংশ।

এর মধ্যে গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে আমানত বেড়েছে ৯৮৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

২০২০ সালে ডিসেম্বরে আমানতে পরিমাণ বেড়ে ৪৪ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকায় উঠেছিল। তখন মোট হিসাব ছিল এক লাখ ৭৯ হাজার ৪০৯টি।

এরপর ঋণ কেলেঙ্কারি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থপাচার, বেনামি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া ও একাধিক প্রতিষ্ঠানে জালিয়াতির ঘটনায় গ্রাহকরা আমানত তুলে নিতে শুরু করেন এনবিএফআই থেকে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে আমানত কমে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকায়। পরে ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৭৫২ কোটি টাকার বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ রাষ্ট্রায়ত্ব এনবিএফআইয়ে, বাকি ৯২ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেসরকারি খাতের এনবিএফআইয়ে।

গত এক বছরে আমানত যত বেড়েছে, ঋণ বিতরণ বেড়েছে তার চেয়ে বেশি। এই সময়ে ঋণ বিতরণ বেড়েছে তিন হাজার ৩৫৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা বা চার দশমিক ৬৩ শতাংশ।

গত জুন শেষে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। ২০২২ সালের জুনে যা ছিল ৬৯ হাজার ৮০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

২০২০ সালে ডিসেম্বরে যখন আমানতের পরিমাণ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকায় উঠেছিল তখন ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ৭০ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা।

বিতরণকৃত ঋণের ৯৯ দশমিক ৮৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪০ দশমিক ৯৯ শতাংশ গিয়েছে শিল্প খাতে। ট্রেড অ্যান্ড কমার্সে ২৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং ভোক্তা পর্যায়ে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে ৩৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৩০৮টি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে শহরে ২৮৬ ও গ্রামীণ এলাকায় ২৬টি।

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)