১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সিনহার প্লট দুর্নীতি মামলা: প্রতিবেদন দিতে আরও সময় পেল দুদক

ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ঠিক করে দিয়েছে।

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 May 2023, 02:05 PM

Updated : 08 May 2023, 04:45 PM

ক্ষমতার ‘অপব্যবহার’ করে প্লট বরাদ্দ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ফের পিছিয়েছে।

সোমবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আছাদুজ্জামান আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিন প্রতিবেদন দাখিলের দিন থাকলেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তা দিতে পারেনি বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস পাল জানান। এ নিয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে দুদক সময় পেল ৮ বার।

২০২১ সালের ৭ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

মামলায় এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরায় ‘বেআইনিভাবে’ প্লট বরাদ্দ নিয়ে নয়তলা ভবন করার অভিযোগ আনা হয়।

পাশাপাশি তিনি ‘অবৈধভাবে অর্জিত’ ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পদ নিজের ভাই এবং আত্মীয়ের নামে স্থানান্তর করেছেন বলে দুদকের ভাষ্য।

মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি থাকাকালে এসকে সিনহা উত্তরা আবাসিক এলাকায়, রাজউকের কাছ থেকে একটি প্লট নেওয়ার পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার ভাইয়ের নামে রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে আরও ৩ কাঠার প্লট নেন।

পরে তিনি ৩ কাঠার প্লটটির আয়তন বাড়িয়ে ৫ কাঠা করেন, প্লটটি পূর্বাচল থেকে উত্তরা-৪ নম্বর সেক্টরে স্থানান্তর করেন এবং তার এক আত্মীয়কে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নিজেই প্লটের ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং পরে সেখানে এবং সাত কোটি ১৪ লাখ পাঁচ হাজার ৮৬৫ টাকা ব্যয়ে ৯ তলা ভবন নির্মাণ করেন।

দুদক আরও বলেছে, প্লট ক্রয় ও অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের উন্নয়নে ব্যবহৃত অর্থের কোনো ‘বৈধ উৎস নেই’ বা তার জ্ঞাত আয়ের সাথে ‘সঙ্গতিপূর্ণ নয়’। ‘অবৈধ পন্থায়’ অর্জিত অর্থ এসকে সিনহা বিভিন্ন ব্যক্তির হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করেন।

ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাত ও পাচারের আরেক মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে গত বছরের ৯ নভেম্বর দুটি ধারায় ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালতে।

গত চার বছর ধরে বিদেশে অবস্থানরত এসকে সিনহাই বাংলাদেশের প্রথম সাবেক প্রধান বিপারপতি, যিনি দুর্নীতিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। পরে বিদেশ থেকেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।